 |
চট্টগ্রাম: যাত্রীর তথ্য ফরম পূরণ আর রেল কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের পরও ঠেকানো যাচ্ছে না কালোবাজারে টিকিট বিক্রি। বিভিন্ন কৌশলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ট্রেনের টিকিট।
রেল কর্মকর্তারা এবার ঈদের টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি হয়নি দাবি করলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ এর সঙ্গে রেলের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত।
গত ১ সপ্তাহে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সময় রেল কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন কালোবাজারিকে গ্রেফতার করেছে ৠাব ও পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের টাইগার পুলিশ বক্সের সামনে থেকে ৪০ এসি আসনের ১০টি টিকিটসহ ২ কালোবাজারিকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
এরা হলো- মো.শফিক (২৮) ও মো.আজিজুল হক (২৯)। বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলায়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. তারেক আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
নগরীর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আব্দুল গোফরান বাংলানিউজকে বলেন, ‘কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে কোতোয়ালি থানাধীন টাইগারপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসি ৪০ আসনের ১০টি টিকিটসহ দু’জনকে গ্রেফতার করি। এসময় বেশি দামে টিকিট বিক্রি করায় শফিক ও আজিজুল হককে গ্রেফতার হয়।’
শফিকের কাছ থেকে ১৮ আগস্টের তূর্ণা নিশীতার ৭টি টিকিটে ২৮ আসন এবং আজিজুলের কাছ থেকে একই দিনের সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩ টিতে ১২ আসনের অবিক্রিত তাপানুকুল শ্রেণির টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান গোফরান।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট বেশি দামে টিকিট বিক্রির সময় মো. বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. হেলাল উদ্দিন (৪০) নামে দু’কালোবাজারিকে গ্রেফতার করা হয় বলেও জানিয়েছেন গোফরান।
এর আগে বুধবার রাতে স্টেশনের অ্যাপ্রোচ রোডে যাত্রীদের কাছে বেশি দামে টিকিট বিক্রির সময় তূর্ণা নিশিতা ও উদয়ণ এক্সপ্রেসের ৫টি টিকিটসহ জামাল হোসেন নামে এক কালোবাজারিকে গ্রেফতার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
একইদিন সকালে স্টেশনের প্লাটফর্মে যাত্রীদের কাছে বেশি দামে বেচার সময় ৯টি টিকিটসহ রেলের ইলেক্ট্রিক ডিপার্টমেন্ট কর্মচারী আসিফ উদ্দিনসহ আরো দু’কালোবাজারি নাছির উদ্দিন ও কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে ৠাব।
ৠাব-৭ সূত্র জানায়, অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় চট্টগ্রাম স্টেশনে গত এক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে বুধবার তিনজন এবং এর আগে ২ জনকে একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. রুকুনুজ্জামান অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক কালোবাজারি কমেছে উল্লেখ করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ও কালোবাজারি রোধ করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
‘পদক্ষেপ নেওয়ার পরও কিভাবে কালোবাজারি হচ্ছে’-জবাবে তিনি বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে হয়তো সংঘবদ্ধ চক্র এসব কাজ করছে। রেলওয়ে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এমবিএম/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর