 |
পাল্লেকেলে: গোড়ায় গলদ থাকলে শেষপর্যন্ত মাশুল দিতে হয়। যে মাঠে আগে কখনো খেলেনি সেই অপরিচিত কন্ডিশনে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ভুলই করলেন মুশফিকুর রহিম। যার মূল্য দিতে হয় ৫৯ রানের বড় পরাজয়ে।
টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড ভালো দল। তারা বেসিক ক্রিকেট খেলে। বাংলাদেশের যেকোন ক্রিকেটারের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে তাদের রেকর্ডও ওপরের দিকে। ওসব জেনেবুঝেও আগে ফিল্ডিং নিলেন মুশফিক! যদিও খেলার পরে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকলেন তিনি, ‘আমরা ‘চেজ’ই করতে চেয়েছিলাম। বোলাররা শুরুতে ভালো করেছে। এরপর ব্রেন্ডন যেমন খেলেছে, দেখিয়েছে কি কারণে সে টি টোয়েন্টির সেরা। পরে বোলিং এবং ফিল্ডিং ভালো হয়নি। ১৬০ হলে ভিন্ন হতে পারত।’
স্পোটিং উইকেট পেয়ে রাজার মতো খেললেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধুনো করে ৫৮ বলে করলেন ১২৩ রান। ১১টি চার ও সাতটি ছয়ের মারে ২১২ স্ট্রাইকরেটে ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংসটি খেললেন কিউই ওপেনার। তার আগের সেরা ইনিংসটি ছিলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১৬ রানের ২০১০ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার অতিমানবীয় ইনিংসের জন্যই নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে তিন উইকেটে হারিয়ে করেছে ১৯১ রান।
সাকিব আল হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানি এবং মাহমুদউল্লাহ প্রতিপক্ষের ইনিংস ধ্বসিয়ে দিবেন এমন প্রত্যাশা থেকে হয়তো আগে ব্যাটিং করেনি বাংলাদেশ। কিন্তু বাঁহাতি তিন স্পিনার প্রত্যাশিত ডেলিভারি দিতে পারেননি। স্পিনারদের সম্পর্কে মুশফিক, ‘দুই বাঁহাতি জেনুইন। সাকিব ব্যাটিং অলরাউন্ডার। আজ স্পিনাররা উইকেট থেকে সাহায্য পায়নি।’
ভুল আরও হয়েছে। বেশি ভালো মেজাজে খেলতে গিয়ে ভুল করেছে ফিল্ডিংয়ে। যার ফলে বিশাল বড় মাঠেও বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে প্রতিপক্ষ। ক্যাচও পড়েছে। ইলিয়াস সানির বলে ব্যক্তিগত ৯২ রানে ক্যাচ তুলেছিলেন ম্যাচ কালাম। কিন্তু মাশরাফি বলটি তালুবন্দী করতে পারেননি। দেখে মনে হয়েছে বেশি চাপ নেওয়ার ফলে ভুলগুলো হয়েছে। মুশফিক এখানেও শক্ত অবস্থানে থাকলেন, ‘নার্ভাস ছিলাম না, সবাই অনেক ফোকাস ছিলো। টি-টোয়েন্টিতে কোন দলই ছোট বা বড় না। দুটো ম্যাচই আমাদের জন্য বড়। বাকি দুই দলের চেয়ে আমরা একটু দুর্বল। চাপ থাকা স্বাভাবিক। শুরুটা একটু ভালো ছিলো। পরে যেভাবে কাউন্টার অ্যাটাক করেছে, এতে কিছু করার ছিলো না।’
১৯২ রান অসম্ভব টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দলের জন্য। বেশি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে শুরু থেকে উইকেটও ছুড়ে আছে। রানের খাতা খোলার আগে কাইল মিলসের বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব ক্রিজে এসেও থিতু হতে পারেননি। মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে ইনিংসটাকে মেরামত করতে গিয়ে দু’জনই আউট। ৩৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। পরে নাসির হোসেন ৫০ রান করলে আট উইকেটে ১৩২ রানে ইনিংস শেষ হয় বাংলাদেশের। অধিনায়ক তাদের ইনিংস সম্পর্কে বললেন, ‘তারা প্রথম ৬ ওভারে খুব একটা রান করতে পারেনি। আমাদের যেহেতু ১৯০ চেজ করতে হবে, সেজন্য প্রথম ৬ ওভার কাজে লাগাতে চেষ্টা করি। বড় জুটি হলে সেটি চেজ করা সম্ভব হতো। যেহেতু আমরা ৬ ওভার পারিনি, সেটি রিকভার করা খুব কঠিন হয়ে যায়।’
মুশফিকের মতে, ‘১৯০ হয়ে যাবার পর ঝুঁকি নিতে হয়, অন্যরকম খেলতে হয়। নরমাল ম্যাচ থেকে বেরিয়ে খেলতে হয়। সেই ঝুঁকি নিতে গিয়ে ঠিকমতো হিসেব করতে পারিনি। আগে আগে উইকেট পড়ে যায়। এরপর তাদের ওই বোলিংয়ের বিপক্ষে ১৯০ করা খুব কঠিন। আসলে পুরো দিনটাই তিন বিভাগে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ২০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলো বাংলাদেশ দল। কিন্তু সে প্রস্তুতি কতটা নিখুঁত হয়েছে সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। কিন্তু মুশফিক বলছেন তার দলের প্রস্তুতিতে কোন ঘাটতি নেই, ‘প্র্যাকটিস না হবার কিছু নেই। গতকালও বলেছিলাম, তাদের দলেও মাচ উইনার আছে, আমাদের দলেও আছে। এক-দুইজন ভালো খেললে ওখান থেকে ফেরা কঠিন। ম্যাককালাম এমন ইনিংস খেললে কঠিন। আমাদের বোলিং-ফিল্ডিং ঠিকমতো হয়নি। ১৬৫-১৭০ হলে চেজ করার মতো পরিস্থিতি থাকত। আমার মনে হয় এই উইকেটে ১৯১ অনেক বেশি। পরে আর্লি উইকেট পড়ে গেছে।’
নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর একটা বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘গতকাল রাতে চিন্তা করছিলাম। পুরো টুর্নামেন্টে হারছে। কারণ বড় দলগুলো ভালো খেলছে নির্দিষ্ট দিনে। আর ম্যাচ উইনাররা কন্ট্রিবিউট করছে।’
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১২
এসএ/সিজি