 |
‘...A large part of our habitual actions are unconsciously done, and most of our necessary words are unconsciously said. The conscious utterance of thought, by speech or action, to any end, is Art.’ – Ralph Waldo Emerson
শিল্প ব্যাপারটা, মানে, সাহিত্য-শিল্পসহ সব শিল্পচিন্তা ও কাজ ঠিক যেনো দেখা যায়- বিজ্ঞান ও দর্শনের সিলসিলার মতো কনস্টান্টলি আন্ডারগো মডিফিকেইশন। যে-কারণে শিল্পটি হাকিকতে কি জিনিসের কি জিনিস নিরঙ্কুশভাবে ধরতে গেলে ধরা পড়ে- nobody can really pin down what it is, শিল্প মর্ম বুঝবার দিক থেকে সাবজেকটিভ হওয়া সত্ত্বেও; এবং কান্তিবিদ্যার জানালা দিয়ে জগতের বিষয়াবলীতে চোখ রাখা সত্বেও। যে-জিনিসের জিনিস ধরা হয় তার পরিচয় স্থান কাল পাত্র আর মাত্রা সাপেক্ষ অনেকটা। হ্যাঁ, নিরঙ্কুশভাবে ধরতে গেলেই মরা গিট্টুর মুখোমুখি, যে-মরা গিট্টুর উপর সুপারগুলু লেপ্টে দেয়া আছে যেন।
শিল্প ও শিল্পচিন্তার মধ্যে পাওয়া যায়- ক্রমান্বয়ে চতুর্মুখি চলতে থাকা সৃজনশীলতার ধারা। শিল্প হাসায় কাঁদায়, সৃষ্টিশীল মারামারি লাগায় যদিও, প্রধানত, শিল্প যোগ করে ঘুরেফিরে নানাভাবে আনন্দের প্রভাব, আনন্দের উপলক্ষ্য। এবং বলতে পারেন, শিল্পের কারণে আপনি জেগে উঠেন সকালবেলায় নির্ধারিত রাত্রির ঘুম শেষে, অথবা দিবসের যে-কোনো ভাগের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমে থাকবার পর জেগে ওঠা শিল্পের কারণে। এই জেগে ওঠা আবার বরাবর জাগ্রত হাল হওয়া ধরবার সুযোগ নেই। কেবল নির্দিষ্ট মাত্রাতে সীমিত জাগরণের অর্থ ধরে। সচেতনতার জাগরণ অন্য মাত্রা-কক্ষে, যে-কক্ষে ঘুমের কোনো পরিপ্রেক্ষিত অবশিষ্ট থাকে না। ঘুম থাকলে সচেতনতার অর্থ অমলিন থাকে না।
এই ঘুম আর জাগবার মাত্রাতে, শিল্প চৌদিক থেকে বিজ্ঞান-দর্শনকে ধরতে পারে আপন আপন সৌন্দর্য বিভার বিকিরণ দ্বারা। বিজ্ঞান-দর্শন ক্রম পর্যায় পার হয়, লা-গায়েব আকারে গায়েব থাকে, শিল্পও পর্যায় পার হয় আর লা-গায়েব আকারে গায়েব থাকে। এবং বিজ্ঞান-দর্শনের গর্ভ থেকে নতুন শিল্পভাবও প্রকাশ পায়। শিল্পের আরেক নাম শক্তি। শিল্পসমৃদ্ধ কথা ও কাজ মানে শক্তিশালী কথা ও কাজ। ‘বল বীর চির উন্নত মম শির’ অথবা ‘আমি বন্ধনহারা কুমারীর বেণী তন্বি-নয়নে বহ্নি’ [নজরুল] কিংবা ‘Morning joined us on the bed’ [লোরকা]।
বুঝাবুঝি ব্যাপারটার মধ্যে না-বুঝাবুঝিও বিরাজ করে। বুঝে নিয়ে আনন্দ উপভোগ, না-বুঝেও সমান্তরালে। যা কিছু বুঝে নেয়া হয়, তা আসলে, নির্দিষ্ট জ্ঞানের দ্বারা সত্যায়ন করবার জন্যে খাপে খাপে মিলেছে কি না বুঝে নেয়া। আর সে-জ্ঞানের নিরঙ্কুশ সত্যাসত্য ধরতে গেলেই না-বুঝবার ব্যাপারটা সামনে আসে প্রত্যেকটি ভোরের মতো। যে-ভোরে পরিষ্কার দেখা যায়, একটা নির্ধারিত রীতিনীতি প্রীতি ছাড়া তথাকথিত বুঝাবুঝি ধরতে গেলে অশ্বডিম্ব পেতে হয়।চাঁদ সূর্য নক্ষত্র জোছনা রোদ দেখলেই চাঁদ সূর্য নক্ষত্র জোছনাকে পুরোপুরি বুঝে নেয়া হয়ে গেল না। যা বোধগম্য হলো তা নিঃসন্দেহে অংশ বিশেষ, মানে, এগুলো সম্পর্কে প্রাপ্ত জ্ঞানের আলোকে বিভিন্ন মাত্রার অর্থের অর্থ কিছুটা বুঝে নেয়া। এবং এমনও হয় যে- ‘বুঝতে-যে পারি নাই, তা বুঝতে পেরেছি’। মানে, না-বুঝতে পারা-কে বুঝতে পারবারও একটা ব্যপার আছে। এক টুকরো দৃশ্যের যা কিছু বুঝে নেয়া হয়, তাতেই দৃশ্যটির সবকিছু বুঝে ফেলা হয়ে যায় না। কখনো এক দর্শক আরেক দর্শককে বলেন, ‘আপনি যা দেখতে পেয়েছেন, তা তো সত্যিই চমৎকার, আমি সে-চমৎকার ধরতে পারি নি’। মানে কিছু ‘চমৎকার’ ধরবার নির্দিষ্ট কান্তিবিদ্যা আছে।‘চমৎকার’র ভেতরে কী থাকে? আনন্দ আনন্দ আনন্দ। নন্দনের দৌলতে দুঃখের আনন্দ সুখের আনন্দ।
তো, ওই যে এ্যামারসন বললেন, The conscious utterance, যা শিল্পকে ধরে, সেই কনশাস আটারেন্স বরাবর ধরা যায় কিভাবে? দেখা যায়, মানুষ বলে, `গতকাল আমি কিছু কথা বলেছিলাম/লিখেছিলাম [অথবা কিছু করেছিলাম], ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা না-করে, ঝোঁকের মাথায়, আমার আসল কথা ঠিক ওরকম না, কথাটা হবে এভাবে ইত্যাদি’। মানে, সুচিন্তিত কথা আর দৌড়ের মুখে, ঝোঁকের মাথায় কথা বা কাজের আলাদা একটা পরিচয় আছে। এই পরিচয় ধরতে পারেলে যদি হয় `কনশাস আটারেন্স’ আর `আনকনশাস আটারেন্স’ শনাক্তকরণ, তাহলে বুঝাবুঝি একটা জাগায় যায়। কিন্তু প্রশ্ন থাকে- এই ঘুম আর জাগরণের সীমিত মাত্রাতে অনন্ত আনন্দ আংশিক পাঠের পরিপ্রেক্ষিতে, `কনশাস আটারেন্স’ শিল্পমণ্ডিত হয়েও কী ঊন বা কমতি থাকে না? মনে হয় যেন থাকে। কারণ কনশাস-কে ধরতে পারা বিরাট কামিয়াবী। কে ধরিবে তারে? সে যে ধরা দেয় না এই মাত্রায়! যেন এক স্বর ব্যঞ্জন এমতো- অন্য মাত্রায় উত্তীর্ণ হও, যাও, ডুব দেও আর আমারে পাও অনন্ত অনির্বচনীয় আনন্দলোকে।
তবে, শুধু কনশাস-কে ভাঙতে থাকলেই বোধন সিদ্ধি আসবে না বোধ হয়। আটারেন্স-কে নিয়েও মসিবত আছে। কারণ, আটারেন্সের precise linguistic definition ধরবারও উপায় নাই। সমস্যা নাই, না-ধরলেও আটারেন্স দ্বারা আনন্দ পাঠ করা যায়, যে-আনন্দ দরকারি প্রসঙ্গ ধরে নানা রঙে। কথা আনন্দ ধরে, কাজও আনন্দ ধরে। আর ইউজফুল [useful] এবং বিউটিফূল [beautiful] সম্পর্কমুক্ত না, সম্পর্কযুক্ত।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৩ ঘণ্টা, ২৪ নভেম্বর, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, pageeditor@banglanews24.com