চট্টগ্রাম: ‘আমি জীবনে কখনও কল্পনা করিনি এমন পুরস্কার পাব। এ পুরস্কার বাংলাদেশের। দেশের সব নারীর। আমি যাতে বন ব্যবস্থাপনায় আজীবন কাজ করে যেতে পারি সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও আট বছর ধরে বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের নিরলস কর্মী খুরশিদা বেগম এভাবেই ‘আন্তর্জাতিক ওয়াংগারি মাথাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির অনুভূতি জানান।
রোববার সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অনুভূতি জানান।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বন ব্যবস্থাপনায় এ পুরস্কার পাওয়ায় আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।
তিনি বলেন, বন সম্প্রসারণ, বনায়ন এবং তা রক্ষায় আমরা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ মহাউদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছি।
তিনি বলেন, কেনিয়ার পরিবেশবাদী ও আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম নারী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ওয়াংগারী মাথাই’র স্মরণে এ বছরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বনবিষয়ক সর্বোচ্চ এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। জাতিসংঘের কোলাবরেটিভ পার্টনারশিপ অন ফরেস্টস্ এ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। নেপালের নারায়ণ কাজি শ্রেষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশের এক অন্যন্য নারী খুরশিদা বেগম এ পুরস্কার জয় করেছেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তিতে শুধু খুরশিদা বেগমই সম্মানিত হননি, একই সঙ্গে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, সরকার এবং বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে।
রোমে অবস্থিত এফএও’র সদর দপ্তরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর খুরশিদা বেগম এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এ বছর বন বিষয়ে এফএও’র সর্বোচ্চ সম্মেলন কমিটি অন ফরেস্ট্রি’র অধিবেশন চলাকালে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কি নোট স্পিকার ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ ও বন রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং মাঠপর্যায়ে জনগণের অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। বাংলাদেশে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, সামাজিক বনায়ন, বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টিসহ সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো ইত্যাদি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমাদের এই সফল কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করল খুরশিদা বেগমের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয় এর আগেও আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছি যা বর্তমান সরকারের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নিরলস কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এর মধ্যে এ বছরই বন ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘের ইকুয়েটর পুরস্কার, উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের জন্য আর্থ কেয়ার পুরস্কার অর্জন অন্যতম।
মন্ত্রী বলেন, শুধু পরিবেশ নয়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংলাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, এডাপ্টেশন ফান্ড বোর্ড, সিডিএম এক্সিকিউটিভ বোর্ড, কমপ্লায়েন্স কমিটি ও কনসালটেটিভ গ্রুপ অব এক্সপার্টসের সদস্যপদ লাভ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর রিচার্ড গ্রিন, এফএও’র কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ডোমিনিক বার্জিওন, আইপ্যাকের চিফ অব পার্টি রাম শর্ম্মা প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫০ঘণ্টা, অক্টোবর ০৭, ২০১২
টিসি