 |
| ছবি: রাজিব/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন থেকে এ পর্যন্ত ২১৭ জন কর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে নারীকর্মী রয়েছেন ৪১ জন, আর তাদের তিনজন অন্তঃসত্ত্বা।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির এসব কথা স্বীকার করেছেন।
মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় ডেকে এনে যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তা মানবিক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা (ছাঁটাই) প্রক্রিয়ার অংশ। আমাদের (গ্রামীণফোন) সময়মতো ডাকা হয়নি। তাদের সুবিধা মতোই ডাকা হয়েছে।’
এদিন তিনি চাকরিচ্যুত অনেককেই আগামী নোটিশ না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তাই অনেককে নোটিশ দিতে পারিনি। তবে এজন্য তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘যতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি কোম্পানির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একটি অংশ।’
এদিকে, কাজী মনিরুল কবির গত রোববার বাংলানিউজের কাছে ১২০ জনকে ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছিলেন।
আর এদিন তিনি জানান, প্রথম দফায় ৭১ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪৬ জনকে। প্রথম দফায় নারী ছিলেন ১৪ জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন তাহামিদ আজিজুল হক।
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে ডেকে এনে চাকরির পরীক্ষা দিতে ডাকার বিষয়টি মানবিক কিনা জানতে চাইলে মনিরুল কবির বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, গ্রামীণফোনে এখন যে পরিমাণ লোকবল ছাঁটাই হয়েছে তার চেয়ে ২০০১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালে অনেক বেশি কর্মী চাকরিচ্যুৎ হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগখাতে প্রতিনিয়ত গতিশীলতা বাড়ছে। যে কারণে এখানে বার্ষিক পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই কোয়াটারলি পরিকল্পনা করা হয়। সবাইকে প্রতিষ্ঠানে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে যারা গ্রামীণফোনের মতো বড় কোম্পানি থেকে চাকরিচ্যুৎ হয়েছেন তাদের জন্য ভালো সুযোগ অপেক্ষা করছে। তারা অন্য কোথাও ভালো চাকরি পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা বলেন, গ্রামীণফোন অত্যন্ত স্বচ্ছতার মাধ্যমে কর্মীদের বিদায় করছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে রাখা হয়েছে।
৪৭ জন কর্মীকে রোববার গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে মনিরুল কবির বলেন, তারা আগেই চাকরিচ্যুৎ হয়েছেন। ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাদের চাকরির মেয়াদ ছিল- এরপরেও অফিসে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের পুনরায় অফিসে ঢুকতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
মনিরুল বলেন, যারা চাকরিচ্যুৎ হয়েছেন তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণই শুধু নয়, অনেক বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অনেককে আগে নোটিশ দেওয়া হয়নি তাই ক্ষতিপূরণও বেশি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৯ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১২