চট্টগ্রাম: নগরীর বহদ্দারহাট সংলগ্ন শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে পড়ার স্থান বহদ্দার পুকুরের পানি অপসারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ধবংসস্তুপের উদ্ধার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করলেও স্থানীয়রা পুকুরের পানি অপসারণের দাবিতে অনড় থাকায় ওইদিন পানি সেচের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি প্রশাসন।
পরে পানি নিষ্কাষণের বিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনীতিকদের দুই দিন সময় বেঁধে দেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
ঘটানাস্থলে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পানি সেচের বিষয়ে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত সভায় পুকুরের পানি নিষ্কাশন করা হবে না বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, ৠাব ও বিজিবি সদস্যদের ওই ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে ফ্লাইওভারে কাজ চলাকালীন সময়ে বেস্টনি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সিডিএ।
বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফ্লাইওভারে তিনটি গার্ডারের মধ্যে একটি পুকুরে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি সেখানে আরো লাশ থাকতে পারে। তাই ওই পুকুরের পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছে তারা।’
তিনি বলেন, ‘লাশ থাকতে পারে- এ সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এত বড় একটি পুকুরের পানি সেচ করা হবে কিনা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য দুদিন সময় দেওয়া হয়।`
এলকাবাসী দুইদিন ধরে আলোচনা করে পানি সেচ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তাই এখান থেকে সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ডুবুরি ও সেনাবাহিনীর শক্তিশালী যন্ত্রের মাধ্যমে খোঁজ করে লাশের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেখানে লাশ না থাকার বিষয়ে সব সংস্থার লোকজন একমত হয়েছিল আগেই।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে টানা ৬০ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৯ ১০ঘন্টা, নভেম্বর ২০১২
এমইউ/টিসি