 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
পাল্লেকেলে: প্রকৃতি এখানে ভয়ঙ্কর সুন্দর, তার প্রতি অঙ্গে রূপের ছড়াছড়ি। পাহাড়ের গায়ে পাহাড় দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে আরেকটি দৃশ্য দেখতে বেশ উপভোগ্য, পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের মিতালি। সেই জন্মলগ্ন থেকে পাহাড় বন্ধুত্ব করেছে মেঘের সঙ্গে। দূর দূরান্ত থেকে ভেসে আসা মেঘমালায় সিক্ত হয় পাহাড়। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) এমন সুন্দর পরিবেশে তৈরি করেছে পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এই ভেন্যুতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
পাহাড়ের পদদেশে গড়ে উঠা স্টেডিয়ামটি দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানর্ডারার্সের আদলে হয়েছে। পূর্ব-পশ্চিমে খোলা, মাটির গ্যালারি। দর্শকরা এখানে সবুজ ঘাসের ওপর বসে আয়েশ করে খেলা দেখেন। উত্তর-দক্ষিণে আধুনিক গ্যালারি। সব মিলে ৩৫ হাজার লোকের খেলা দেখার ব্যবস্থা আছে। এই প্রদেশের জনসংখ্যা এক লাখ ২৫ হাজারের মতো। অতএব ধরে নিতে পারেন এই বিশ্বকাপে পাল্লেকেলের গ্যালারি খা খা করবে।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে এসেছেন হাজার তিনেক দর্শক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি দর্শকও আছেন। বেড়াতে এসে বিশ্বকাপের খেলাও দেখে নিচ্ছেন অনেকে। ভেন্যুর প্রথম ম্যাচ সেভাবে স্থানীয় দর্শকদের টানতে পারেনি। গেট উন্মুক্ত করে দিলেও হয়তো গ্যালারি ভরবে না। বিদেশি দর্শকদের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষও আছেন। ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তারাও খেলা দেখতে এসেছেন।
এত অল্প দর্শক নিয়েও স্টেডিয়ামে উৎসবের পরিবেশ থাকলো। পেশাদার বাদক দিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে সরগরম করে রাখা হয় স্টেডিয়াম। রেকর্ড করা মিউজিক তো ছিলোই। উইকেট পড়লে আতশ বাজি পুড়িয়ে আকাশটাকে বর্ণীল করে তুলেছে।
এত কিছুর পরেও বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মন ভরেনি। আক্ষেপ করে একটি ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক বললেন, ‘বিকেএসপিতে খেলা হলেও এরচেয়ে বেশি দর্শক হয়। বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট পাগল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলা হলে স্টেডিয়াম দর্শকে গমগম করে।’
ওয়ানডে বিশ্বকাপের কিছু দৃশ্য মনে আছে। খেলার আগের রাতে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড় হয়ে উৎসব করতেন। পছন্দের একটি টিকিট পেতে হাজার হাজার টাকা খরচ করতেও তাদের আপত্তি ছিলো না। সেই দেশের মানুষের কাছে পাল্লেকেলের এমন দৃশ্য হতাশ করার জন্য যথেষ্ট।
ক্যান্ডি সময়: ১৮০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১২
এসএ/সিজি