 |
| ছবি: জনি / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: রাজধানীর পান্থপথের গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে জাহিদ (৩৫) নামের একজন রোগী মঙ্গলবার বিকেলে মারা যান। নিহত জাহিদের বাবা হাজী আ. খালেক মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসকের অবহেলায় তার ছেলের মৃত্যুর অভিযোগে কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কলাবাগান থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।
বংশালের ২০/১ হাদী লেনের বাসিন্দা হাজী আ.খালেক মামলায় উল্লেখ করেন যে, আমার ছেলে জাহিদের খাদ্যনালীতে টিউমার ছিলো। সে কোনো খাবার খেলে বমি হতো। গত রোববার ৮ জুলাই বিকেলে জাহিদকে গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর হাসপাতাল কতৃপক্ষ অগ্রীম ৫০ হাজার টাকা নেয়। তারপর অপারেশন করে। মোট ৩ লাখ ৫শ হাজার টাকা বিল করে। ৮ তারিখ রাতেই জাহিদকে ডা. মোহাম্মদ আলী তার সঙ্গে কয়েকজন ডাক্তার নিয়ে অপারেশন করেন। তাকে সেই রাতেই ৪১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়া হয়।
আ. খালেক উল্লেখ করেন ৯ তারিখ সোমবার সকালে ডা. মোহাম্মদ আলী তাকে বলেন, জাহিদের অপারেশনে কিছু ভুল হয়েছে। পুণরায় অপারেশন করতে হবে। কিন্ত তিনি নার্সদের কাছে জানতে পারেন রোববার রাতে অপারেশন করার পর কোনো ডাক্তার জাহিদের খোঁজ-খবর নেননি। সোমবার আবার জাহিদকে সিসিইউতে রাখা হয় এবং অক্সিজেন দেওয়া হয়। এরপর অপারেশন করা হয়। কিন্ত ১০ জুলাই মঙ্গলবার ডাক্তাররা আ. খালেককে জানান যে তার ছেলে জাহিদের দুইবার অপারেশন হওয়ার পরও বিকেল ৩ টার দিকে মারা গেছেন।
জাহিদের মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তার আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে এসে ডাক্তারদের কাছে জবাব চান। এ সময় ডাক্তাররা তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেননি। হট্টগোল তৈরি হলে কয়েকজন সাংবাদিক আসে। সাংবাদিকরা আসার পর ডাক্তাররা কথা বলে। সে সময়ে আ. খালেক সাংবাদিকদের সামনে চিকিৎসকের অবহেলায় কথা তুলে ধরেন।
এরপর তিনি রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের নিকটবর্তী কলাবাগান থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর-১০। এতে তিনি হাসপাতালের ৩ জন ডাক্তার, হাসপাতালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পিআরওকে আসামী করে মোট ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
কলাবাগান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাবার পর আমরা একজনকে গ্রেফতার করি। বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হবে। এসআই মাসুদ এই মামলার তদন্ত শুরু করেছেন । আশাকরি বুধবারেই আমরা বাকি আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাবো।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা অমানবিক। আমরা ৩০৪ এর পেনাল কোড অনুযায়ী অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা গ্রহণ করেছি। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মামলার তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলাবাগান থানা হাজতে আটক হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে জানান, গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও এমডি হলেন প্রফেসর ডা. এবিএম মহসীন। সেইসঙ্গে তিনি বারডেম হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলজী বিভাগের প্রধান।
বাংলাদেশ সময় ০৫০০ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১২
এমআইআর/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর