 |
ঢাকা: আগামী নির্বাচন হতেই হবে। আর এ জন্য রাত ১২টার পর টিভি টকশো’তে তর্ক করে লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তিনি আওয়ামী লীগের দেওয়া পন্থার বিপরীতে বিএনপিকেও একটি পন্থা দেওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মরণীর হোটেল ফার্সে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্বে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন হতেই হবে। আর এ জন্য রাত ১২টার পর টিভি টকশো’তে তর্ক করে লাভ হবে না। নির্বাচিত ব্যক্তিকে কোনো সরকারের প্রধান করে যদি আগামী নির্বাচন হতে হয়, তবে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করে সেই সরকারের প্রধান হতে পারেন। আর সেই জনমত সৃষ্টি করার জন্য একটি নাগরিক ঐক্য দায়িত্ব পালন করতে পারে।”
ব্যারিস্টার রফিক বলেন, “আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি পন্থার কথা বলেছেন। বিএনপিও একটি পন্থা দিতে পারে।”
ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না। আমি একজনকেই জানি, তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি একজন আওয়ামী সংশোধনপন্থী, সংস্কারপন্থী নই। আমি চাই, জনগণ প্রার্থী দেখে ভোট দিক। তিনি যে কোনো দলের হতে পারেন, কেবল জামায়াত ছাড়া। কারণ, যারা দেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।”
তিনি আরো বলেন, “আগামী নির্বাচন আমার কাছে মনে হচ্ছে অনিশ্চিত। মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের মধ্যে নির্বাচনী ভীতি কাজ করছে। নির্বাচনের কথা শুনলে আওয়ামী লীগ ভয়ে কাঁপতে থাকে।”
সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এমন একটি নির্বাচন পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে, কিভাবে নতুন দল সৃষ্টি হবে।”
রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন করা যে কত কঠিন, তা নির্বাচন করে দেখেছি। তবে ’৭২ সালের সংবিধানের সময় আর ২০১২ সালের সংবিধানের সময় এক নয়।”
রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তবে সংঘাতের দিকে যেন আমরা না যাই। অতীতে যা ঘটেছে, তা আবার ঘটুক, সেটা চাই না।”
সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, “আমি মনে করি, রাজনীতির প্রথম কথা জনগণ, শেষ কথাও জনগণ। জনগণ যা চায়, রাজনৈতিক দলগুলো যেন তা বুঝতে পারে।”
আয়োজক সংগঠন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়ছে না, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা প্রকাশ পাচ্ছে। শেয়ারবাজারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট হলেও কিছু করতে না পারলেও সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
তিনি বলেন, “মানুষ আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে পছন্দ করে না। নাগরিকদের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই। ঈদের পর বড় দুই দল লড়াইয়ে নামবে। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই, সুন্দর দেশ দেখতে চাই।”
মান্না বলেন, “সৎ ও যোগ্য প্রার্থীর আন্দোলন কি অন্যায়? আমরা রাজনীতিকে ভয় করি না। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক দল নই। ঈদের পর জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নাগরিক ঐক্য রাজপথে আন্দোলনের কথা চিন্তা করবে।”
এতে আরো বক্তব্য রাখেন ভাষা সৈনিক আহাম্মদ রফিক, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এআই/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর