চট্টগ্রাম: ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যেকের ফাঁসি চায় বাংলাদেশের আমজনতা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ত্রিশ লাখ শহীদ, ইজ্জত হারানো ২ লাখ মা-বোন ও অগণিত যুদ্ধশিশুর আত্মা শান্তি পাবে।’
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) শাখা ছাত্রলীগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ অভিমত দেন।
চমেক ক্যাম্পাসের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘সহযোদ্ধা সম্মেলন ও নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।
কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল পারভেজ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ, কেন্দ্রীয় বিএমএর সমাজসেবা সম্পাদক ডা. আহসান হাবীব হেলাল, চমেকসুর সাবেক সহ-সভাপতি ডা. আবদুস সাত্তার ফরায়েজি, বিএমএ নেতা ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, ডা. রবিউল করিম, ডা. মঞ্জুরুল আকবর চৌধুরী প্রমুখ।
ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘পদ্মা সেতু কনসপ্রিসি থেকে আমরা মুক্ত হতে পেরেছি। বিশ্বব্যাংক এখন পদ্মায় চলে এসেছে।’
ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল অতীত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকে এ ছাত্র সংগঠনটি যে অবদান রেখে এসেছে তা অতুলনীয়। ছাত্রলীগ নেতৃত্ব নির্বাচনে কখনো ভুল করেনি, আগামী দিনেও করবে না।’
ক্যাম্পাস ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর করার জন্য ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদকে বিএমএ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ডা. নাসির।
ডা. আহসান হাবীব হেলাল বলেন, বাঙালি সহনশীল জাতি, তারা উগ্রভাবে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা পছন্দ করে না। রাজনীতিতে ধর্মীয় উগ্রবাদ ধারণ করে সাময়িক ফায়দা লোটা গেলেও ব্যাপক জনসমর্থন পায়নি দলগুলো।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধর্মীয় জিগির তুলে যারা একাত্তরে মা-বোনদের ইজ্জত লুটেছিল তারা আবার সুযোগ পেলে ফণা তুলবে, ছোবল মারবে। বিএনপির ছত্রছায়ায় অতীতে আমরা তাই দেখেছি, তারা রগ কেটেছে, বোমা ফাটিয়েছে।
ডা. মঞ্জুরুল আকবর চৌধুরী বলেন, ‘তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীর কথা শুনে কষ্ট হয়। তারা বলেন, ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। তাদের উদ্দেশে বলব, পেছনে ফিরে দেখুন ছাত্রলীগের নিঃস্বার্থ ত্যাগের ইতিহাস, যুগে যুগে জাতির বিবেকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ছাত্ররা।’
ডা. মো. রবিউল করিম বলেন, ‘যারা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কটু কথা বলেন, তারা জানেন না ছাত্ররাজনীতি ছাড়া সত্যিকারের ত্যাগী নেতা তৈরি হয় না। নেতা ছাড়া জাতীয় সংকট-সমস্যার সমাধান হয় না।’
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শান্ত দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চমেক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ডা. তানভীর, ডা. উপল, ডা. রিপন দাশ, ডা. রেজওয়ান রায়হান, ডা. রূপন চাকমা, ডা. রাজিব, ডা. অর্ণব বড়ুয়া ডেভিড, ছাত্রনেতা হেলাল উদ্দিন, তানভীর আহমদ, ওসমান গনি, ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি ডা. মফিজুর রহমান জুম্মা, সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা প্রমুখ।
সভার সভাপতি সোহেল পারভেজ সুমন বলেন, ‘এ ক্যাম্পাসে কখনো যদি স্বাধীনতাবিরোধীরা হুংকার দেয়, কখানো যদি কেউ ক্যাম্পাসে ধর্মান্ধ রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়াতে চায়, কেউ যদি ছাত্ররাজনীতির নামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা চালায় তাহলে সইবে না ছাত্রলীগ।’
অনুষ্ঠানে চমেক ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদের সাবেক নেতাদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন নবীনরা।
আলোচনা সভার আগে চমেক ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদের সাবেক নেতাদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কলেজ ক্যাম্পাস ও কেবি ফজলুল কাদের সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিকেলে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১২
এআরএম, সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর