নোয়াখালী: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, “সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।”
রোববার বিকেল ৩টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাট পৌর মিলনায়তনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মওদুদ আহমেদ বলেন, “রমজানে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না বললেও তার আগেই সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ।”
মওদুদ বলেন, “সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাদের অনিয়ম ও অপকর্ম ঢাকতে তারা মিথ্যা মামলা এবং নতুন নতুন ইস্যু সৃষ্টি করছে। তারই অংশ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ নেতাকর্মীকে প্রায় একমাস ধরে বন্দি করে রেখেছিল।”
তিনি বলেন, “সরকারের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার ফলে তারা দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই, বর্তমান সরকারের প্রতি দেশের মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের কোনো জনপ্রিয়তা নেই এবং আগামী নির্বাচনে তারা নিশ্চিত পরাজিত হবে জেনে এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্রে উঠেপড়ে লেগেছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে নিজেদের তৈরি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে তারা। কিন্তু তা বাংলাদেশের মাটিতে কখনও সম্ভব হবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ৮৬ জনের মতো একটি কমান্ড বাহিনী তৈরি করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদেরকে হত্যা, গুম, নির্যাতন করছে।”
তিনি বলেন, “সরকারের আচার-আচরণে মনে হচ্ছে, দেশে স্বৈরশাসন চলছে। বিরোধীদল গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে চাইলেও সরকার স্বৈরশাসকের মতো দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে তা বাধা দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক সরকার যখন স্বৈরশাসনের মতো আচরণ করে, তখন দেশে গণতন্ত্র বলে আর কিছুই থাকে না।”
কর্মী সভায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- ফখরুল ইসলাম দুলাল, মো. ইলিয়াছ, লিটন চৌধুরী, নাজমুল হুদা ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২০০৭ ঘণ্টা, জুন ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান ও ওবায়দুল্লাহ সনি, নিউজরুম এডিটর