 |
ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও বাতিল করাতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) বিধিমালা-২০০৬-এ সংশোধন আনার প্রস্তাব করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপও) দেওয়া প্রস্তাবনায় ১৪টি নির্দিষ্ট কারণ থাকলে ওই আইপিও এক বছরের জন্য বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্যও এক বছরের শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে সিএসই’র প্রস্তাবনায়।
গত সপ্তাহের সোমবার ১৯ নভেম্বর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) এ প্রস্তাবনা জমা দেয় সিএসই।
সিএসই’র পক্ষ থেকে যে সব কারণের জন্য আইপিও বাতিলের বিধান চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- যে কোম্পানির আইপিও প্রস্তাবের মাধ্যমে অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বোঝা সম্ভব না, ঋণ পরিশোধের জন্য আইপিও হলেও ঋণ নেওয়ার কারণের অনুপস্থিতি, দৃশ্যমান সম্পদ অর্জনে অর্থের ব্যবহার না হলে, যে ব্যবসায়ের জন্য অর্থ নেওয়া হচ্ছে, ওই সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পূর্বে আইপিও আবেদন করলে, যদি অর্থ উত্তোলন ও তা ব্যবহারের দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকে, ব্যবসার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে হলে, অস্বাভাবিক আয়-ব্যয়, অদৃশ্যমান সম্পদ বৃদ্ধি ইত্যাদি সম্পর্কে নিরীক্ষক সন্দেহ প্রকাশ করলে এবং যদি এসইসি মনে করে, বিনিয়োগকারীরা ব্যবসায়ের ঝুঁকি নিরূপন করতে সম্ভব হবে না এমন সব প্রতিষ্ঠানের আইপিও বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে সিএসই।
এছাড়া আইপিওতে আসতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা নিরীক্ষক প্যানেল গঠনের প্রস্তাব করেছে সিএসই। এ বিষয়ে সিএসই’র প্রস্তাবনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে যেমন অডিটর প্যানেল রয়েছে, তেমনি এসইসি’র একটি আইপিও নিরীক্ষক প্যানেল তৈরি করার প্রয়োজন। আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে যে সব প্রতিষ্ঠান অর্থ উত্তোলন করতে ইচ্ছুক, তাদের এসইসি’র ওই আইপিও অডিটর প্যানেলের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করতে হবে।
একই সঙ্গে ওই প্যানেলের অডিটরের মাধ্যমে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে ওই অডিটরকে কালো তালিকাভুক্ত করারও প্রস্তাব করেছে সিএসই।
তবে প্রিমিয়ামের হারে বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রিমিয়ামের কোনো পূর্বনির্ধারিত কাঠামো না ঠিক করে যে প্রতিষ্ঠান যতটা প্রিমিয়াম পাওয়ার যোগ্য, ওই কোম্পানিকে ততটাই প্রিমিয়াম দেওয়া উচিত।
যে কোনো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর অন্তত দুই বছর ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যাবতীয় পর্যালোচনা পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক (ইস্যু ম্যানেজার)। আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, যে সব ক্ষেত্রে আইপিও’র অর্থব্যবহার হওয়ার কথা, তা সঠিকভাবে হচ্ছে কি-না এসব দিক দেখবে ইস্যু বস্থাপক। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে প্রস্তাবনায় মন্তব্য করা হয়।
এছাড়া কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকলেও তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সে ধারাবাহিকতা অব্যাহাত না থাকার কারণে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কোম্পানির একটি লভ্যাংশ দেওয়ার নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেওয়ার নিম্নমুখী ও অস্থিতিশীল হার কারসাজির পরিবেশ তৈরি করে।
এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনের দূর্নীতি প্রতিরোধে ৪টি সুপারিশও করেছে স্টক এক্সচেঞ্জটি। আর যে কোনো্ প্রতিষ্ঠান আইপিওতে আসার এক বছর আগে এসইসিতে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান চালুর সুপারিশ করা হয় এতে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় উল্লিখিত বিধিমালাটি সংশোধনে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এসইসি।
বাংলাদেশ সময়: ১০১২, নভেম্বর ২৮, ২০১২
এইচএমএম, সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর