 |
টারকোয়াজ বর্ণ সুরের আকাশ
১.
সৌধচূড়ার উজানে শিলাবৃত্তির গান।
বাসনার গাণ্ডীব ছায়ায় ঝরা রোদের বিষাদে
সে গান উজাড় হবে কোনও মগ্ন কান্তারে।
ফুলের নিরিখ আঁকড়ে বাজে পথের বেদনা
যেন স্নানকামী পথের আত্মায়
জলের অন্তঃশীলতায়
তারার অঙ্গার শুধু সাগরে ধ্বনিত।
২.
আমার শ্রুতির পিঠে ঘণ্টাধ্বনির ওপর এক ছাদ
সেখানে আজ রাতে তারাশিশুদের সাথে
কথা বলে একগুচ্ছ বোগনেভিলিয়া।
৩.
তেরছা বৃষ্টির দিকে দিকে চেয়ে আছে আমার তিমি।
লেজ থেকে হাত হয়ে আনাবিল মাথা—
বৃষ্টিকে কেমন আয়তনে বেঁধে ফেলেছে সে
আহ! স্বাস্থ্য আমার।
তুমি উত্থানের মতো শান্ত ও সুন্দর
আর বোবা ও আস্থাস্রাবী।
একটা সম্পূর্ণ চিঠির মতো,
এসেছো প্রাচ্য থেকে সোনারঙ আমার তিমি-তে।
স্নান থেকে সৌধে নেবো তোমাকে
নেবো গম্বুজের মতো
নেবো লতানো উড্ডীনে
৪.
বীজ-ফোটন আগ্রাসী
গহ্বর প্রসার বিম্তারে
ছুটে চলে
ইস্পাতদণ্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা
ভ্রূ কুঁচকে জানতে চেয়েছি ওতে তরঙ্গ না পোত
হাসি দিয়ে বাবা বললেন— ‘ধর্’
আমরা অনুভব করলাম হিম
তান
তনু
আভা
আকস্মিক
বর্ণচক্রে মিলিয়ে যাচ্ছে শতাব্দির পর শতাব্দি
৫.
উপকূল আমাকে ভিজিয়ে যায় যাপন মুকুলে।
বৃক্ষমূল থেকে নিয়েছি গান,
শুইয়ে রেখেছি তাকে।
আমার হাত থেকে বাহু ও স্তন রাতের মতো সদ্যপাতী হলে
এই গান আকাশ-বীজের-রাত গর্ভে পোহাবে।
এভাবে যুগল গীতে বয় ধারা-নীল বিন্দু বর্ষা।
আমাকে নাড়িয়ে যায় সুর
আমাকে বাজিয়ে যায় স্রোত
সীমার সংহার আমি নির্ঝরে ভেজাই
আর নির্জন ফুলের দেশে অদেখা ঘ্রাণের দিন দেহ ভরে আনি।
বাংলাদেশ সময় : ১৬০০ ঘণ্টা, ২৯ নভেম্বর ২০১২