কুমিল্লা : ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করা নিয়ে মুরাদনগর উপজেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
আর এই অসন্তোষ থেকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার নিজেই শুধু জনবিচ্ছিন্নই হয়ে পড়েননি। দলও হারাচ্ছে বিশাল কর্মী বাহিনীকে।
মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশ্বিনী কুমার দেবনাথ, কৃষক লীগের সভাপতি আবদুর রহিম ও উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম সাধনের অভিযোগ- ‘আমরা এসব কর্মকান্ডে হতাশ’।
তারা বলেন, আগামী নির্বাচন আসতে আর বেশি দেরি নেই। দেড় বছর বাদেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ গ্রাস রুটের দল। সাধারণ কর্মী নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন- জাহাঙ্গীর আলম সরকার ৪ বার সংসদ নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এরশাদ শাসনামলে শাসক দলের হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন।
এ অবস্থায় যদি কর্মীরা হতাশ ও বিগড়ে যায়- তাহলে দলের জন্য হবে ভয়াবহ সর্বনাশ। তাই সময় থাকতেই দল গুছিয়ে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে এদিকে নজর দিতে হবে।
বিশেষ করে মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করা নিয়ে সেখানে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে কমিটিতে সাচ্চা কর্মীদের পরিবর্তে সুবিধাবাদী ও চাঁদাবাজদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ কাউন্সিল না ডেকে সাধারণ নেতা-কর্মিদের দূরে সরিয়ে রেখে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সে কারণে উপজেলা নেতৃবৃন্দ মনগড়া এ কমিটি মেনে নিতে পারছেন না। তারা সবার অংশ গ্রহণের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার জন্য দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেননা এ কমিটি নিয়ে অসন্তোষ লেগেই আছে। দলের ভেতর চলছে চাপা ক্ষোভ। সৃষ্টি হয়েছে বিভাজন। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বেগকে মারধর করেছে আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের লোকেরা।
এমন অবস্থায় সাধারণ নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ।
বাংলাদেশ সময় : ১৪২১ ঘণ্টা, জুন ০৯, ২০১২
কেইএইচ,
সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর