 |
বেনাপোল (যশোর): ২০১২-১৩ অর্থ বছরের বাজেট বৃহস্পতিবার ঘোষণার পর বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও ব্যাবসায়ী সংগঠনের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মাসুদ সাদিক বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বাংলানিউজকে জানান, ইতিপূর্বের বাজেটগুলো ঘোষণার পর পরই তা কার্যকর করা হয়েছে।
কিন্তু এবার ২০১২-১৩ অর্থ বছরের পেষকৃত বাজেট পহেলা জুলায় ২০১২ থেকে কার্যকর করা হবে। তাই এ মুহূর্তে এবারের নির্ধারণ করা বাজেটে ব্যাবসায়ীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেটা বলা কঠিন।
তবে জুনের শেষের দিকে ব্যাবসায়ীদের ওপর এ বাজেটের প্রতিক্রিয়া উপলধ্বি করা যাবে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা বাংলানিউজকে জানান, রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ২০১২-১৩ অর্থ বছরের বাজেটের বই এখনও পর্যন্ত আমরা হাতে পাইনি। শুধু মাত্র জানতে পেরেছি বাজেট ঘোষণা হয়েছে।
তাই এবার এই বাজেটে ব্যাবসায়ীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেটি নতুন বাজেট বই দেখার পরই মন্তব্য করা যাবে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি যমুনা ট্রেডিং করপোরেশনের সত্ত্বাধিকারী আমিনুল হক বাংলানিউজকে জানান, ইতিপূর্বে আমদানি পণ্য পাচার প্রতিরোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ৭৯টি পণ্যের উপর নতুন করে শুল্ককর আরোপ করা হয়।
এক্ষেত্রে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য অনেক কমে গেছে। এসব পণ্যের উপর শুল্ককর আরোপ করায় অনেক ব্যাবসায়ীরা এসব পণ্য বৈধ পথে আমদানি না করে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে নিয়ে আসছে। ফলে সরকার এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
গত ১ মাসে ভারত থেকে আমদানি হতো এ ধরনের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য সামগ্রী বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা আটক করেছে।
আমদানি বাণিজ্য সহজিকরণ করলে সীমান্ত পথে চোরাচালান কমবে বলে মন্তব্য করেন আমদানি-রফতানি অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা।
তিনি আরও জানান, সরকার বেনাপোল বন্দর উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু এই বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার কারণে ব্যাবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে।
ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনার কারণে প্রতিদিন দুপুর ১২টার পর ভারত থেকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হচ্ছে।
এছাড়া কারণে অকারণে এপার-ওপার বন্দরে ঘন ঘন ধর্মঘট হওয়ায় ব্যাবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলমান এসব সমস্যা দ্রত সমাধান করতে পারলে আমদানি বাণিজ্যে আরও গতিশীলতা ফিরে আসবে।
এদিকে ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত বেনাপোল কাস্টমস হাউজে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল ২ হাজার ৪শত ৭৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ২শত ২৮ কোটি ৪৩লাখ টাকা।
বছর শেষ হতে আরও ২২ দিন বাকি। এবার টার্গেট অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে কিছুটা অনিশ্চিত দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে কাস্টমস কমিশনার মাসুদ সাদিক বাংলানিউজকে বলেছেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে কিছু পণ্যের উপর শুল্ককর আরোপ করায় আমদানি কমে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তিনি আশাবাদি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে টার্গেট অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হবেন।
বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, জুন ৮, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর