 |
| ছবি : রাজীব /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, কোনো আর্দশ প্রতিষ্ঠা করতে নয়, বরং ক্ষমতা যাওয়ার জন্য বারবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীও সেজন্যেই করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখে এটাই প্রমাণ করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাড়ে ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে কোয়ালিশন অব লোকাল এনজিওজ, বাংলাদেশ (সিএলএনবি) আয়োজিত ‘নৃ-গোষ্ঠী-ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় দেওয়া বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
মান্না বলেন, ``বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীকে নিয়ে সরকারের মধ্যেও বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘও সেখানে নিরেট (নিরপেক্ষ) সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, সেখানে ক্ষমতাসীনদের একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত ছিল।``
সারাদেশে আদিবাসী দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ``অধিকার বঞ্চিতদের আন্দোলনে বাধা দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। ``
মান্না বলেন, ‘‘বাঙালি ও আদিবাসীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়তে চায়। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী চায় না, আমাদের মধ্যে ঐক্য হোক। মূল সমস্যা হচ্ছে, শাসকগোষ্ঠী জনগণের কাছে ক্ষমতা দিতে চায় না।``
তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতিতে যতো শক্তি প্রয়োগ কম হবে, ততোই মানুষের কল্যাণ সাধন সম্ভব হবে। রাজনীতি মানুষের মুক্তির পথ দেখায়। সেখানে গায়ের জোরে শক্তি প্রয়োগের যে প্রবণতা, আমাদের তার বিরোধিতা করা উচিত।’’
প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আপনি অনেক কিছু আমাদের শেখান। অথচ আপনি কতোটুকু মানেন, তাও প্রশ্নসাপেক্ষ।’’
দেশের নাগরিকদের অধিকারের কথা শোনার কেউ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ``দেশে আছে তো দুটি সংসদীয় (সরকারি দল ও বিরোধী দল) গণতন্ত্র। তারা যে আন্দোলন করে, তা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার।``
সরকারি দলকে উদ্দেশ্য মান্না আরো বলেন, ‘‘শেয়ারবাজার ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে গ্রামীণব্যাংককে কিভাবে শায়েস্তা করা যায়, তাতে তারা পারদর্শিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।’’
‘‘আমাদের দুর্ভাগ্য, কোনো বিরোধী দলও জনগণের ন্যায্য দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে না। আর তখনই নাগরিকদের কর্তব্য বেড়ে যায়। আর এজন্যই আমরা নাগরিক আন্দোলন করছি।’’
``আজ দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে নাগরিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই`` উল্লেখ করে মান্না বলেন, ``যারা ক্ষমতায় থেকেও নাগরিকদের চাওয়ার কথা শোনেনি, জনগণের অধিকার দিতে পারেনি, তাদের সঙ্গে আমাদের লড়াই করতে হবে।’’
‘‘ঈদের পর শুরু হয়ে যাবে দু’দলের লড়াই। বিরোধী দল যে আন্দোলন শুরু করবে, তা-ও কেবল ক্ষমতা যাওয়ারই লড়াই।’’
সংগঠনের অ্যাথনিক কাউন্সিলের সমন্বয়কারী নবীন পাহানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাবি সিনেট সদস্য ও প্রশিকার পরিচালক নার্গীস জাহান বানু, গণস্বাস্থ্যের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মমতাজ পাটোয়ারী, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক রতন তনু ঘোষ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিএলএনবি’র চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১২
এনএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com