রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ২টি অ্যাম্বুলেন্সসহ সেন্টারের ভেতরে ৬টি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত দ্রুত এ হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে ছাত্র পরিচয়ে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়ার পর পাঠাতে একটু দেরি হওয়ায় তারা এ হামলা চালায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে নগরীর নওদাপাড়া মেডিক্যাল সেন্টার থেকে ছাত্র পরিচয় দিয়ে টেলিফোনে ফোনে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বলে। সে সময় মেডিক্যাল সেন্টারের ২টি অ্যাম্বুলেন্সের একটি এক ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং অপর অ্যাম্বুলেন্সটি একজন শিক্ষককে একই নিয়ে যায়।
অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে পারেনি মেডিক্যাল সেন্টার কর্তৃপক্ষ।
এরপর আরও দু’বার একই স্থান থেকে টেলিফোন করে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বলে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স এলে সেটিকে নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সটি সেখানে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা কর্মচারীকে খুঁজে পায়নি। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি মেডিক্যাল সেন্টারে ফিরে আসে। এসময় অপর অ্যাম্বুলেন্সটিও মেডিক্যাল সেন্টার ফিরে আসে।
বেলা ১টার দিকে ১০-১৫জন দুর্বৃত্ত এসে হঠাৎ লাঠিসোঁটা নিয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে হামলা চালায়।
তারা মেডিক্যাল সেন্টারের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ২টি অ্যাম্বুলেন্স, রিসিপশনের একটি টিভি, দুটি টেলিফোন এবং মেডিক্যাল সেন্টারের ৬টি কক্ষে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। অল্পসময়ের মধ্যে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার হুদা ও টেলিফোন অপারেটর শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে তিনবার অ্যম্বুলেন্সের জন্য ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাপাতাল থেকে ফোন আসে। অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে পারিনি।
অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার হুদা বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকায় আমার ওপরেও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।’
এদিকে, ঘটনার পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ নূরুল্লাহ, প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, ছাত্র-উপদেষ্টা গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শন করেন। তবে এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাবি মেডিক্যাল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার মির্জা ওয়াজেদ বেগ বলেন, ‘কেউ ছাত্র পরিচয় দিলে আমরা আর তার কোনো পরিচয় জানতে চাই না। ছাত্র পরিচয়ে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিল। কে হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তারা যে ছাত্র ছিল এটা নিশ্চিত।’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।’
প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের একটি আগে থেকেই বিকল ছিল। সবসময় ২টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা দেওয়া হতো। কিন্তু বৃহস্পতিবার ২টি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুরের ফলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সই বিকল হয়ে গেল।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৭ ঘণ্টা, ২৪ মে, ২০১২
জনাব আলী
সম্পাদনা: সাইফুল ইসলাম, কান্ট্রি এডিটর