৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, মঙ্গলবার মে ২১, ২০১৩ ১:১৪ পিএম BDST banglanew24
21 Jun 2012   06:26:26 PM   Thursday BdST
E-mail this

মামলা জটিলতায় চালু হচ্ছে না পূর্ব রেলের ৬১ স্টেশন


মো. মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মামলা জটিলতায় চালু হচ্ছে না পূর্ব রেলের ৬১ স্টেশন

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১৫টি মামলায় তিন বছর ধরে আটকে আছে ৬২৬টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। আর এতে ৬১টি বন্ধ স্টেশন চালু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদগুলোতে নিয়োগ দিতে না পারায় রেলে লোকবল সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো চালু করা যাচ্ছে না। এতে রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগস্ত হচ্ছে।

স্টেশন মাস্টার পদে লোক নিয়োগ জরুরি উল্লেখ করে পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে বলেন, এ পদে লোক নিয়োগ দিতে না পারায় অনেক বন্ধ স্টেশন চালু করা যাচ্ছে না।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ১৫টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে চারটি মামলায় ১০ ক্যাটাগরিতে মোট ৬২৬টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

মামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নিয়োগ দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে বিভিন্ন বিভাগে লোকবল সংকটে কাজের গতি কমছে।

মামলা চারটির শুনানি হলেও রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রায় না হওয়াতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।

নিয়োগ স্থগিত থাকা পদগুলো হলো- মোটর ড্রাইভার, ফিল্ড কানুনগো, স্টেনো টাইপিস্ট, মিসট্রেস, লাইব্রেরিয়ান, ট্রেন কন্ট্রোলার, ট্রাফিক এপ্রেনটিস, ল্যাবরেটরি সহকারী, অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট এবং সহকারী স্টেশন মাস্টার।

পূর্বাঞ্চলের চিফ পার্সোনাল অফিসারের (সিপিও) কার্যালয় (সংস্থাপন শাখা) থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্টেনো টাইপিস্ট, অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট ও সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

ওই তিনটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না করে ২০১০ সালে বাকী সাতটি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ওই তিনটি পদে আবেদনকারীরা উচ্চ আদালতে মামলা করলে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করে।

তখন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হয়নি কেন জানতে চাইলে চিফ পার্সোনাল অফিসার গাউস আল মুনির বাংলানিউজকে বলেন, সরকারের অনুমতি না নিয়ে তিনটি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাই ওইসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি।

তিনি জানান, মোটর ড্রাইভার পদে ১৭টি, ফিল্ড কানুনগো পদে পাঁচটি, স্টেনো টাইপিস্ট পদে ৫২টি, মিসট্রেস ৫টি, লাইব্রেয়িান ১২টি, ট্রেন কন্ট্রোলার ১২টি, ট্রাফিক এপ্রেনটিস ১০টি, ল্যাব সহকারী ১০টি, অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট ৪১২টি ও সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের ৯১টি পদ শূণ্য রয়েছে।

এসব পদে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় লোক নিয়োগ আটকে আছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ২০১০ সালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মোট ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়।

এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে প্রথম রিট আবেদন (৯৩৩৬) করেন নিম্নমান সহকারী কাম স্টেনো টাইপিস্ট পদে আবেদনকারী সাফকাত হাবিব ও মাকসুদা আক্তার লিপি।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মাসের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন আদালত। পরে আরো ৬ মাস বাড়ানো হয়। মামলাটি বর্তমানে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।

২০১১ সালে দ্বিতীয় মামলাটি করেন অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট পদে আবেদনকারী ফাহমিদা ইয়াসমিন ও আরো ৪৩ জন মিলে রিট আবেদন (৫২৫৬) করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৭ ক্যাটাগরিতে ৫১৮টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট ডিভিশনে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে রায় হয়।

পরে প্রশাসন হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল(৩৬৫) করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

২০১১ সালে তৃতীয় মামলাটি করেন অফিস সহকারী কাম স্টেনো টাইপিস্ট পদে প্রার্থী রবিউল ইসলাম ও আরো ১২জন। মামলাটির শুনানি হলেও এখনো রায় হয়নি। ফলে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

একই বছর সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের আবেদনকারী আবু হান্নানসহ মোট ৪ জন রিট আবেদন (৬৪৩০) করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ওই পদে স্থগিতাদেশ ছিল। পরে এ আদেশ আরো বাড়ানো হয়।

আইন দফতর সূত্র জানায়, ১৫টি মামলার মধ্যে চার মামলার বিপরীতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মে দায়ের করা আরো ১১ মামলা চলমান রয়েছে।

চিফ পার্সোনেল অফিসার বলেন, পদগুলোতে নিয়োগ দিতে না পারায় রেলে লোকবল সংকট তীব্র হচ্ছে। ফলে কাজের গতি বাড়ানো যাচ্ছে না।

স্টেশন মাস্টার পদে লোক নিয়োগ খুবই জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পদে লোক নিয়োগ দিতে না পারায় ৬১টি বন্ধ স্টেশন খোলা যাচ্ছে না।

পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে বলেন, বন্ধ স্টেশন চালু করতে না পারায় রেল চলাচলে স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রেল সাধারণত ৭৬ কিলোমিটার গতিতে চললে বন্ধ স্টেশনের আগে এ গতি কমিয়ে দিতে হয়। ফলে অনেক সময়েই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব হয়না।

এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হলে অনেক বন্ধ স্টেশন চালু করা যেত বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৩ ঘন্টা, ২১ জুন ২০১২
এমইউ/এমএমকে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান