ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু সিদ্ধান্ত ভুল হওয়ার কারণে সাধারণ ব্যাংকের সাথে সাথে এফবিসিসিআই এর মতো প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, শেয়ারবাজার খুব ভালো অবস্থায় না থাকলেও, একদম পড়ে যাবে এমনও নয়।
আর বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতির উন্নয়নে কি করা যায় এ বিষয়ে সকলে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, শেয়ারবাজার শক্তিশালী করার জন্য এসইসিতে সিকিউরিটিজ মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এ ফান্ডের কিছু টাকা এখনো পড়ে আছে। তবে অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
এছাড়া গত বছর বিএবি ঘোষিত পাঁচ হাজার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে দুই হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে।
পাশাপাশি ২০০৯-১০ সালে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজার থেকে ভালো মুনাফার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা উচিৎ। যাতে বাজার একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে থাকে।
পুঁজিবাজারে ২০১০ সালে ধ্বস শুরু হওয়ার সময় ব্যাংকগুলো মার্জিন কল করলে একটা পর্যায়ে গিয়ে বাজার আবার উঠে ভালো হয়ে যেত কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিএসই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, আমি মনে করি মার্জিন ঋণ পলিসি রিভিউ করার সময় এসেছে। এটা আমরা এসইসিতে উপস্থাপন করব।
এছাড়া পুঁজিবাজারের ঝুঁকির বিষয়ে ব্যাংকগুলোর শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এখান থেকে এমন মুনাফা করা সম্ভব যা ব্যাংকগুলো চিন্তাও করতে পারবে না। আমি ব্লাঙ্ক সাইন করতে পারি। আসেন আমরা সবাই মিলে বাজারকে স্থিতিশীল রাখি। বাজারের সূচক ৪০০০ থেকে ৪৫০০ মধ্যে উঠানামা করছে, যা খুবই ইতিবাচক।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বলেন, ফোর্সসেল না করতে এসইসি থেকে ব্যাংকগুলোকে লিখিত কোন নির্দেশনা দেয়নি। তবে ফোন করে ফোর্সড সেল না করতে বলা হয়েছে। এতে গ্রাহকও সর্বস্ব হারিয়েছে এবং ব্যাংকগুলোর টাকাও আটকে রয়েছে। তাই মুখে বললেও ব্যাংকগুলোর পক্ষে আর নতুন করে বিনিয়োগে যাওয়া সম্ভব না।
এছাড়া সম্প্রতি সাভারের তাজরিন ফ্যাশান্স করাখানায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে বিএবির পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদানেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।
বাংলাদেশ সময়: ০১২০ঘন্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর