 |
ঢাকা: মধ্য রমজানে এসে বিভিন্ন ধরনের সবজির মূল্য কমতে থাকলেও ডালের মূল্য বাড়ছেই। বাড়তির দিকে পোলাও চাল ও চিনির দামও।
রমজানে নিত্যপণ্যের মধ্যে ডাল অন্যতম। রমজানের আগ মুহূর্ত থেকে ডালের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা, ২ টাকা করে বাড়তে শুরু করে। রমজানের মাঝখানে এসে আবারও বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম।
রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট, জিগাতলা, গুলশান ও কাঁচাবাজারসহ খুচরা এবং পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় আবারও খুচরা এবং পাইকারি বাজারে ডালের দাম বাড়তির দিকে।
কাঁচাবাজারে কেজিপ্রতি দেশি ভালো মানের মসুর ডাল ১২০ টাকা, খেসারি ডাল ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, মুগডাল ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকা এবং ছোলা প্রকারভেদে ৮২ টাকা থেকে শুরু করে ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি দেশি ভালো মানের মসুর ডাল ১০৯ টাকা থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকা এবং ছোলা ৭৯ টাকা থেকে শুরু করে ৮২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
চিনির দামও বাড়তির দিকে। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় ১০০ টাকা করে আবার বেড়ে গেছে। ফলে ৫০ কেজি ওজনের ২ হাজার ৫০০ টাকার বস্তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। সেখানে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে।
তবে সবজির দাম তুলনামূলক ভাবে কম। প্রতিকেজি টমেটো ৯০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, শসা ২৫ টাকা,পেঁপে ২৫ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, গাঁজর ৪০ টাকা এবং কচুরমুখি প্রতিটি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। লেবুর হালি প্রকারভেদে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
তবে সব ধরনের মাংসের দাম আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গরুর মাংসের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের বেধে দেওয়া দাম মানছেন না খুচরা বিক্রেতারা। প্রতিকেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। অন্যদিকে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে ইলিশের দাম কম থাকলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব না পড়ে বিক্রি হচেছ আগের দামেই।
রাজধানীর জিগাতলায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
প্রতিকেজি শিং মাছ বড়গুলো ৮০০ টাকা, মাঝারিগুলো ৭০০ টাকা এবং ছোট শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। রুই মাছ বড়গুলো ৩২০ টাকা থেকে ৩৩০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০০ টাকা, কই মাছ ২০০ টাকা থেকে ২১০ টাকা এবং দেশি মাগুর মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা কেজি দরে।
অনান্য চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খোলা পোলাও চালের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকা। তবে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে।
রসুন, পেয়াঁজ, আদা ও আলুর দামও কমেছে গত সপ্তাহের মতোই। আলু কেজিপ্রতি ১ টাকা থেকে ২ টাকা কমে ২৩ টাকা থেকে ২৪ টাকা, আদা কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চায়নিজ রসুন বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা।
সয়াবিন তেলের দামও গত সপ্তাহের মতোই আছে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৬৬৫ টাকা থেকে ৬৭০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৩৪ টাকা, পাম তেল ১০৫ টাকা এবং সুপার ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪১ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১২
এমআইএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর