 |
ঢাকা: ‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব বঙ্গে!
তিষ্ঠ ক্ষণকাল!
এ সমাধি স্থলে
(জননীর কোলে শিশু লভয়ে
যেমতি বিরাম) মহীর পদে মহা নিদ্রাবৃত
দত্ত কুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!’
বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ প্রতিভাধর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৩৯তম প্রয়াণদিবস ২৯ জুন শুক্রবার। শতাব্দীকালেরও বেশি সময় পূর্বে কবি দৈহিকভাবে এই ধরাধাম থেকে অনুপস্থিত হলেও এখনো তাঁর অনন্যসাধারণ সাহিত্যকর্ম সমুজ্জ্বল আমাদের সাহিত্যে।
বলাবাহুল্য, যাঁদের হাতে বাংলাসাহিত্যের নবজাগরণ সূচিত হয়-মাইকেল মধুসূদন তাদের অগ্রপথিক।
মধুসূদন জন্মেছিলেন ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাড়ির এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে। পিতা রাজনারায়ণ বসু ও মা জাহ্নবী দেবী। তিনি ছিলেন বাবা-মার একমাত্র সন্তান।
যৌবনে ইংরেজি সাহিত্যের প্রবল আকর্ষণে কবি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন, একই সঙ্গে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্মে দিক্ষিত হন এবং মাইকেল উপাধি গ্রহণ করেন।
কলকাতায় হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়ে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি) মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ডি. এল. রিচার্ডসন ও অধ্যাপক ডিরোজিওর দ্বারা প্রভাবিত হন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে পিতা রাজনারায়ণ দত্ত তাঁকে ত্যাজ্য করেন। ত্যাজ্য হয়ে মধুসূদন একপর্যায়ে জীবিকার অন্বেষনে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে পাড়ি জমান মাদ্রাজে।
এখানে এসে মাদ্রাজ ক্রনিকল পত্রিকায় ছদ্মনামে লিখতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু অল্পকালের মধ্যেই অর্থাভাবে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। পঁচিশ বছর বয়সে অবর্ণনীয় দারিদ্র্যের মধ্যেই তিনি দ্য ক্যাপটিভ লেডি নামে তাঁর প্রথম কাব্যটি রচনা করেন। এর মাধ্যমে তাঁর কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কবি ও দক্ষ ইংরেজি লেখক হিসেবে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে কবি ভুল বুঝতে পেরে মাতৃভাষা বাংলায় সাহিত্য রচনায় প্রবৃত্ত হন। বলা যায় জীবনের ঠিক মাঝ পর্যায়ে এসে তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্যরচনা করতে শুরু করেন।
মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি: দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর বধ ইত্যাদি।
প্রতিভাধর এই কবির ব্যক্তিগত জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে অত্যন্ত কষ্টে। বিশেষ করে মৃত্যুর পূর্বে তিনি নিদারুণ কষ্ট ভোগ করেন। এর জন্য কবির অমিত্যব্যয়ী অভ্যাসকেই দায়ী করেন অনেকে। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে একরকম নি:স্ব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এই দিকপাল।
বাংলাদেশ সময়: ০৫৩৭ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০১২
এআই/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর