৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ১৮, ২০১৩ ৬:২১ পিএম BDST banglanew24
28 Jul 2012   09:46:18 PM   Saturday BdST
E-mail this

বিশ্ব গণমাধ্যমে অলিম্পিক উদ্বোধনী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বিশ্ব গণমাধ্যমে অলিম্পিক উদ্বোধনী

ঢাকা: ২৭ শে জুলাই রাতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মোচিত হলো ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক গেমস প্রতিযোগিতার বিশাল ক্যানভাস। দর্শকের দৃষ্টিতে এবারের অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্মরণীয় হয়ে থাকবে ব্রিটেনের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রদর্শনী হিসেবে।

অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র ‘স্লাম ডগ মিলিওনিয়ার’- এর পরিচালক ড্যানি বয়েলের মনোমুগ্ধকর নির্দেশনায় পূর্ব লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মুগ্ধ বিস্ময়ে উপস্থিত দর্শকরা সেখানে উপভোগ করেন স্পেশাল ইফেক্টের আকর্ষণীয় আলো আঁধারির খেলা।

অর্থনৈতিক সঙ্কট ও অন্যান্য সমস্যার মধ্যে সময় অতিবাহিত করা ব্রিটিশদের এ অলিম্পিক আয়োজনে শুধু দর্শকদেরই মুগ্ধ করেনি বরং বিশ্ব মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে।

বিশ্ব মিডিয়ায় চোখে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল
চীনের মূলধারার রাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোতে শুক্রবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও চীনে অনুষ্ঠিত ২০০৮ এর অলিম্পিকের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে এবারের অলিম্পিকের একটি তুলনা মনে মনে অঙ্কন করেছেন অনেক চীনা নাগরিকই। তারপরও চীনের মিডিয়ায় লন্ডন অলিম্পিকের প্রশংসা করা হয়েছে।

সিনহুয়া বলেছে, শেকসপিয়ার থেকে রাওলি, শিল্প বিপ্লব থেকে সামাজিক যোগাযোগ, ব্রিটিশরা বিশ্ববাসীকে এটাই বলতে চেষ্টা করেছে ‘বিশ্ব সভ্যতায় লন্ডনের অবদান ভুলে যাওয়া যায় না এবং ভবিষ্যতেও বিশ্ব সভ্যতায় লন্ডন তার প্রভাব রেখে যাবে।’

সিনহুয়ার লিন ইয়াঙ লিখেছেন, শান্ত গ্রামীণ চিত্র থেকে শুরু করে সহজাত ব্রিটিশ রসবোধ ও সাহিত্য, লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলো সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশ স্বাতন্ত্র্যবোধের ছোঁয়া। ব্রিটেনের উন্নত সংস্কৃতি এবং শিল্পের ছোঁয়া ছিলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরতে পরতে।

কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত পিপলস ডেইলির চেন চেং সি তার লেখায় ব্রিটিশদের সংযত এবং স্বতন্ত্রময় সাংস্কৃতিক উপস্থাপনের প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, যদি অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তার আবেদন ও উষ্ণতা অক্ষুণ্ন রেখে চোখ ধাঁধানো জাকজমক থেকে সাধারণরূপে পরিবর্তিত হয়, তবে একেই সত্যিকারভাবে অলিম্পিক আন্দোলনের মূল চেতনার দিকে প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে লেখে, ব্রিটেনের সমৃদ্ধ ইতিহাস, মহান ও বিখ্যাত চরিত্রগুলোর রূপায়নের সমন্বয়ে এটি একটি মনোমুগ্ধকর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূলত ব্রিটেনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতকেই মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

সিংগাপুরের স্ট্রেট টাইমস লিখেছে, ব্রিটেন সত্যি সত্যিই একে একটি অসাধারণ প্রদর্শনীতে রূপান্তরিত করেছে। যদিও একে আসলে পরিমাপ করা যাবে না, তবে নিশ্চিতভাবে দর্শকদের মনে এ অনুষ্ঠান ভিন্ন অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।

ইউরোপ
ফ্রান্সের লা ফিগারো দৈনিক লিখেছে, এ প্রদর্শনী বিশ্বের শত কোটি দর্শককে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ব্রিটেন শতকের পর শতক জুড়ে বিশ্ববাসীকে অনেক কিছুই উপহার দিয়েছে।

জার্মান পত্রিকাতেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বয়েলের নির্দেশনা ও পরিচালনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়। বিল্ড পত্রিকা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে অভিহিত করেছে আসরের মূল দীপ্তি হিসেবে। পত্রিকার হেডলাইনে ছাপা হয়েছে, ‘ওহ! কি প্রদর্শনী’।

এছাড়া ডাই ওয়েট পত্রিকায় লেখা হয়েছে, সন্ধ্যার এ আয়োজন জীবন্ত হয়েছে আলোক প্রযুক্তি. আতশবাজি আর ব্রিটিশদের চিরাচরিত ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের কল্যাণে।

আমেরিকা মহাদেশ
লস এঞ্জেলেস টাইমস লিখেছে অনুষ্ঠানের ঘটনাবলী ছিলো দ্রুত, সাবলীল, আকর্ষণীয়, উত্তেজনাকর এবং একই সঙ্গে অপ্রত্যাশিত। নিশ্চিতভাবেই সেখানে কোনো কিছুই অনাকর্ষণীয় ছিলো না।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন লিখেছে, উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিলো আনন্দ উচ্ছল ও মনোমুগ্ধকর, যেখানে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ক্রম বিবর্তন ফুটে উঠেছে।
 
মধ্যপ্রাচ্য
৮৬ বছর বয়সী রানী এলিজাবেথের গেমসের উদ্বোধনী ঘোষণার ওপর আলোকপাত করে মিশরীয় দৈনিক আল আহরাম বলেছে, অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের মধ্যযুগীয় জাঁকজমক থেকে আধুনিক শিল্প যুগে তাদের বিবর্তন সবকিছুই উপস্থাপিত হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রশংসা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ব্রিটেনের ইতিহাসের একটি সমুজ্জ্বল ঘটনা হিসেবে পরিচিত হবে বলে উল্লেখ করেছে প্রেস টিভি।

এই প্রতিযোগিতা অর্থনৈতিক মন্দায় আক্রান্ত দেশটির সাধারণ জনগণকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য সব দুশ্চিন্তা থেকে দুরে সরিয়ে রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করে তারা।

কাতারের দি পেনিনসুলা দৈনিকে বলা হয়েছে, দর্শকদের জন্য একটি মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে লন্ডন। বয়েল খুবই বুদ্ধিদীপ্তভাবে তাদের ব্রিটিশ সত্ত্বাকে উপস্থাপন করেছে, হাজারো ছোট গল্পের মাধ্যমে যা হয়তো উপস্থাপন করা সম্ভব হতো না।

বাংলাদেশ সময়: ২১১৮ ঘণ্টা, জুলাই ২৮, ২০১২
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

আন্তর্জাতিক

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান