গাজীপুর: প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন আমরা বাতিল করি। ৫ম সংশোধনী বাতিলের রায়ে আমিও বিচারক ছিলাম। আমরা বিচার বিভাগ স্বাধীন বলি, বলি ইনডিপেন্ডেন্ট। কিন্তু মাজদার হোসেন মামলার রায় অনুসারে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ কার্যকর হয় নি।‘
তিনি বলেন, ‘ওই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের যে সব নির্দেশনা (ওবজারভেশন) ছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা ৫ম সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছি।‘
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির হল রুমে বাৎসরিক পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ডক্টর মো. সহিদউজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম প্রধানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ তানজীনা ইসমাইল, গাজীপুর বারের পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, জিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান পাঠান।
এ সময় জজশিপ ও ম্যাজিস্ট্রেসির সব বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি আলাদা হলেই বিচার বিভাগ আলাদা হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগ ও বদলি সেই অবস্থায়ই রয়েছে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাদের দায়িত্ব সংবিধান নিশ্চিত করেছে। শুধু সুপ্রিম কোর্টের নয়, আমি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। বিচার করার সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রশাসনিক কাজ করতে হয়।’
আইন প্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি আলাদা করলে বিচার বিভাগ আলাদা হয় না। এটা পরিস্কার হওয়া দরকার।’
‘সাধারণ আইনজীবী থেকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আদালত ভবনের অবকাঠোমোগত সমস্যার কথা আমি জানি। সারা দেশে একই অবস্থা। ডিসি অফিসের বারান্দায় আদালত দেখলে আমি খুব কষ্ট পাই।’
সমস্যায় জর্জরিত গাজীপুর আদালত ভবন সম্প্রসারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মোমবাতির নিচে অন্ধকার।’
ঢাকার কাছে গাজীপুর আদালত ভবন সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ‘আনসার অফিস ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থানান্তর করলে গাজীপুর আদালত ভবনের অকাঠামোগত সমাধান হবে।’
বিচারকদের গাজীপুরে অবস্থান করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘নিয়মিত আদালতে বসতে হবে। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক থাকতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট বসেন নি, সাক্ষী আসেন না, এটা হবে না। এ সব বিষয়ে আমি কোনো কৈফিয়ত শুনতে রাজি নই।’
সারা দেশের আদালত ভবন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ননা করে তিনি বলেন, ‘বিচার কার্য পরিচালনার সময় ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার, তদন্তাকারী পুলিশ কর্মকর্তা নাই, তা হবে না। সবাইকে সময় মতো সাক্ষ্য দিতে হবে। অল্প সময়ে বিচার শেষ হলে মামলার সংখ্যা বাড়বে। মানুষ বেশি করে আদালতে আসবেন।’
মামলার দীর্ঘসুত্রিতা সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ট্রায়ালকোর্টের পুরনো মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে।’
এর আগে গাজীপুর সার্কিট হাউজে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন, গাজীপুর-১ আসনের সাংসদ আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেনসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা।
পরে তিনি বেশ কয়েকটি আদালতে বিচারকের পাশে বসে বিচারকার্য সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর