ঢাকা: কানাডা বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১৭৫টি দেশকে জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্স) সুবিধা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি কানাডা জিএসপি সুবিধা বাতিল করার জন্য ৭২টি দেশের যে তালিকা করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই।
সোমবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
কানাডায় বাংলাদেশি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সরকারের চিঠির জবাব আগামী ১২ এপ্রিল দেবে বলে জানিয়েছে কানাডা।
বাণিজ্য সচিব বলেন, “কানাডায় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০০৩ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে। কানাডা প্রতি ১০ বছর পর পর জিএসপি প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের রুলস অব অরিজিন রিভিউ করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনগত পরিবর্তন করে থাকে।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ কানাডার যে রুলস অব অরিজিনের আওতায় জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে, সেটা ২০০৪ সালের। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী জুনে এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।”
সচিব বলেন, “কানাডার জিএসপির রুলস অব অরিজিন অনুযায়ী যেসব পণ্য জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে, সেসব পণ্যের কাঁচামাল কানাডার জিএসপি সুবিধা পেয়ে থাকে এমন দেশ থেকে আমদানির বিধান রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় ভারত ও চীনের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে দেশের পোশাক শিল্পের ওপর এর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, পোশাক শিল্পের সিংহভাগ কাঁচামাল এ দুই দেশ থেকে আসে। অন্য কোনো দেশ থেকে কাঁচামাল আনা হলে পোশাক শিল্পের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।”
তার মতে, নিট পোশাকে তেমন প্রভাব পড়বে না, তবে ওভেন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, কানাডায় জিএসপির আওতায় যে পরিমাণ পণ্য রফতানি হয়, এর পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ কোটি ডলারই পোশাক শিল্প থেকে আসে।
সচিব জানান, চিঠির জবাবের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ’র সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তাদের মতামতগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া কিছু হিসাব-নিকাশেরও বিষয় রয়েছে। আগামী দু’তিনদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে বিটিএমএ-র সেক্রেটারি জেনারেল ফিরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমানে পোশাক শিল্পের ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ এবং নিট পোশাকের প্রায় ৪৫ ভাগ ফেব্রিকস ও ইয়ার্ন ভারত ও চীন থেকে আনা হয়।”
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় বৈঠকে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ভারত ও চীন থেকে কাঁচামাল আমদানির সুবিধা আরও ১০ বা ১৫ বছর বহাল রাখা বা বাংলাদেশকে ‘সিঙ্গেল স্টেচ ফ্যাসিলিটি’ প্রদানের জন্য কানাডার সরকারকে অনুরোধ জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৩
এসএআর/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর