গাইবান্ধা: গাইবান্ধা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ঘাঘট নদীর জলমহাল মৎস্যজীবীদের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মৎস্যজীবীদের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েক বছর আগে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ওই জলমহালের ইজারা পান। সরকারি খাতে যথাযথভাবে রাজস্ব জমা দিয়ে জেলা শহরের ব্রিজ রোড এলাকার ৩২ জন মৎস্যজীবী মিলে গড়ে তোলেন ‘মৎস্য অভয়াশ্রম প্রকল্প’।
কিন্তু কিছু দিন পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল রাতারাতি ওই ৩২ জন মৎস্যজীবীকে উচ্ছেদ করে এ ‘মৎস্য অভয়াশ্রম প্রকল্প’ ভোগদখলে নেয়।
এদিকে, কয়েকদিন আগে ওই ৩২ জন মৎস্যজীবী ঘাঘট নদীর জলমহালের ‘মৎস্য অভয়াশ্রম প্রকল্প’ অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
কিন্তু গাইবান্ধা সদর উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ এবং তার অফিস সহকারী মজিবর মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে ওই প্রভাবশালী মহলটিকেই জলমহাল বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেছেন।
দরিদ্র মৎস্যজীবীদের (জেলে সম্প্রদায়) বাঁচাতে সরকার ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি চালু করলেও এই নীতির সামান্যতম সুফল ভোগ করতে পারছেন না গাইবান্ধার হতদরিদ্র মৎস্যজীবীরা।
এ ব্যাপারে মৎস্যজীবীদের দলনেতা নারায়ণ চন্দ্র দাস বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা ওই প্রকল্পে ৩২ জন মৎস্যজীবী সম্পৃক্ত ছিলাম। গত ৩ বছর এ জলমহালের রাজস্ব পরিশোধ করেছি| কিন্তু আমাদের কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মৎস্যজীবীরা মানবেতর জীবনযাপন করছি, আর আমাদের জলমহালের প্রকল্প অবৈধভাবে ভোগদখলকারীরা আর্থিকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠছেন।”
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি জানান, অবৈধ ভোগদখলের ব্যাপারে তার কিছু করার নেই। এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর