ঢাকা: দেশের পল্লী অঞ্চলের গতানুগতিক চিত্র পাল্টে দিচ্ছে সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প। টুকটাক ত্রুটি-বিচ্যুতি, বৈষম্য বা অনিয়ম থাকলেও প্রকল্পের সফলতা প্রায় শতভাগ বলে দাবি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ।
সম্প্রতি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি সরকারের এ কার্যক্রম দেশের পল্লী অঞ্চলে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
বৈঠকে তিনি এ প্রকল্পের প্রচার কার্যক্রম জোরদার এবং এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও পল্লী পাঠশালা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ জানায়, ২০১৫ সাল নাগাদ দেশে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত। ‘কাজের মধ্য দিয়ে দারিদ্রের স্থায়ী অবসান’- হচ্ছে এ প্রকল্পের দর্শন।
পল্লী উন্নয়ন বিভাগ জানায়, প্রথমে প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৮২টি উপজেলার ১ হাজার ৯২৮টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৬৪০টি গ্রামের ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪শ’ পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। পরবর্তীকালে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি সংশোধন করে এর আওতা ৯ হাজার ৬৪০টি গ্রাম থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৩৮৮টি গ্রামে উন্নীত করা হয়। সেই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয় ২৯৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর কমিয়ে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
পল্লী উন্নয়ন বিভাগ জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈষম্য বা অনিয়ম দূরীকরণে সংশোধিত প্রকল্প বাস্তবায়নে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ ও কিছু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
এগুলো হচ্ছে- প্রতিটি গ্রাম থেকে ৬০টি দরিদ্র পরিবার বাছাই করে ‘গ্রাম উন্নয়ন সমিতি’ গঠন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সঞ্চয়মুখী করে তাদের পুঁজি গঠনে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে তাদের সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রকল্প তহবিল থেকে মাসে ২শ’ টাকা করে বছরে ২ হাজার ৪শ’ টাকা অনুদান দেওয়া, সমিতির আওতায় প্রতি বছর দেড় লাখ টাকা সুদবিহীন ঘুর্ণায়মান ঋণ তহবিল প্রদান, সমিতির সদস্যদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তহবিল ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে প্রকল্প গ্রহণ, যেমন- মৎস্য চাষ/পশু পালন/নার্সারি/হাঁস-মুরগি পালনসহ পেশাভিত্তিক জীবিকার ব্যবস্থা, এলাকার অনিবাসী ভূমি-মালিকের অব্যবহৃত জমি সমিতির আওতায় চাষাবাদ ও তা সংরক্ষণ করা।
গৃহীত এসব কর্মসূচির বিপরীতে গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৭ হাজার গ্রাম সমিতি গঠন করা হয়। এ প্রকল্পে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৮ হাজার জনে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ২৯৪ জনকে। সদস্যদের প্রতি মাসে ২শ’ টাকা জমার বিপরীতে প্রকল্প তহবিল থেকে বোনাস দেওয়া হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা এবং সমিতি প্রতি সুদবিহীন ঘুর্ণায়মান ঋণ তহবিল বিতরণ করা হয়েছে ২০৪ কোটি টাকা।
পল্লী উন্নয়ন বিভাগ জানায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রকল্প বাস্তবায়নের হার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। বর্তমানে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জীবিকাভিত্তিক ঋণ প্রকল্প গ্রহণ কার্যক্রম চলছে। সমিতি প্রতি ৪০টি হিসাবে মোট প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬ লাখ ৭০ হাজার। এরই মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো এ মাসের মধ্যেই গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলেও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ জানায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এসআর/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর