 |
সিলেট: সিলেট বিভাগের সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ডাকা লাগাতার ধর্মঘট তিনদিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে এক বৈঠকে সিএনজি ফিলিং স্টেশন কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী পুলিশকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন তিনদিনের জন্য তাদের লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। সিলেটের শিবগঞ্জের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ছাত্রলীগের হামলা ভাংচুর ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন নের্তৃবৃন্দ।
রাত ১১টায় সিলেট সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফা বৈঠকে এ নিয়ে সমঝোতা হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাত ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বৈঠক চলে । এর আগে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত প্রথম দফার বৈঠক ফলপ্রসু হয়নি। এসময় আসামী ধরতে তিন ঘন্টা সময় নেওয়া হয়েছিল বলে বৈঠক সূত্র জানা যায়।
এদিকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে সিলেটে চার জেলা সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ।
বৈঠকে মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, যারা এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
মেয়র কামরান বলেন, ‘ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারো এতো বড় সাহস যে ভাংচুর করে আবার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে যায়, তাহলে এখন সাহস গেলো কোথায়? এখন সে বাসায় থাকে না কেন? তাকে খোঁজে পাওয়া যায়না কেনো।’
আওযামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ সিরাজ বলেন, ‘এটা কোনোভাবে মানা যায়না। কার্ড দিয়ে চাঁদাবাজি করবে আবার হুমকি দেবে এটা গ্রহনযোগ্য নয়। সিলেটের মাটিতে এসব অপরাধ করে কেউ ঠিকে থাকতে পারবে না ।
এসময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামী ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে আসামীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।
নগরীর বাগবাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাসী চালানো হয়েছে। সেইসাথে সিলেটের বাইরে পুলিশের আরেকটি টিম আসামী ধরতে বের হয়েছে। যত দ্রত সম্ভব এদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বস্থ করা হয়।
এরপরে সিএনজি স্টেশন নেতৃবৃন্দ আসামী ধরার সময়-সীমা বেঁধে দিতে মেয়র কামরানকে অনুরোধ করেন। এ প্রেক্ষিতে সর্বসস্মতভাবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
রাতের বৈঠকে মেয়র কামরান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদ অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা প্রশাসক খান মো. বিলাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও শাহপরাণ থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, ট্যাঙ্কলরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, পেট্রোলিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তোফা কামাল, তারানা সিএনজি এর মো.ফরিদ আহমদ, এম এ হান্নান, মো. কামাল উদ্দিন, সৈয়দ সাইফুর ইসলাম, ফয়েজ উদ্দিন আহমদ, আবু হাসিন চৌধুরী, এস এস মাহবুব আহমদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ দুর্বৃত্তরা চাঁদা দাবি করে শিবগঞ্জের সুরমা অটোকেয়ার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি করে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সিলেট জেলা সহ-সভাপতি সেলিম চৌধুরী, পিনাক ও সাদ আলীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন সুরমা অটোকেয়ার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদ।
এরপর গত সোমবার আবারো দু’দফা হামলার চেষ্টা করা হয় সুরমা অটোকেয়ার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদের শাহজালাল উপশহরস্থ বাসায়। হামলাকারীরা ‘মামলা দেওয়া শিখিয়ে দেবে’ বলে হুমকি দিয়ে যায়। এরপর তিনি আবার শাহপরাণ থানায় জিডি করেন।
বাংলাদেশ সময়: ০৩১৭ ঘণ্টা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১২
এসএ/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর