ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ শহরে জনস্রোত বাড়ছে। এ শিক্ষা নগরীতে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় শহরে শিক্ষার্থীদের বসবাসের চাপও বাড়ছে। এ সুযোগে শহরের অলি-গলিতে লাফিয়ে বাড়ছে মেসের সংখ্যা।
সেই সঙ্গে এসব মেসে ভাড়াটিয়া পেতে মেস মালিকরা বেছে নিয়েছেন অভিনব কৌশল। এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করছেন শহরের বিভিন্ন চা স্টলের দেয়াল। বছরের বিভিন্ন সময়ে এসব দেয়ালে শোভা পায় এ ফোর সাইজ কাগজে কম্পিউটার কম্পোজ লেখা ‘মেস ভাড়া দেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহ শহরে এমন চা স্টলের সংখ্যা খুবই কম আছে, যেখানে এ ধরণের অভিনব বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ে না।
বেশিরভাগ বিজ্ঞপ্তিতে ধূমপানমুক্ত, নিরিবিলি পরিবেশে পড়াশুনা করার সু-ব্যবস্থা আছে উল্লেখ করার পাশাপাশি এলাকার নাম ও মেস মালিকের মোবাইল নম্বর জুড়ে দেওয়া হয়। ভাড়ায় বনিবনা হলে শিক্ষার্থীরা মেসে থাকার সুযোগ পান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোড, কাঁচিঝুলি, গোলাপজান রোড, সানকিপাড়া, সানকিপাড়া শেষ মোড়, সেনবাড়ী, মাদ্রাসা কোয়ার্টার, আকুয়া চৌরঙ্গী মোড়, চরপাড়া, ব্রাক্ষপল্লী, গোহাইলকান্দি, জবেদ আলী রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মেসে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বসবাস করছে।
আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ও মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজ ছাড়া বাকী কোন স্কুল বা কলেজের নিজস্ব ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাস নেই। ফলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ শিক্ষা নগরীতে আসা শিক্ষার্থীরা মেসে ভাড়া থাকেন।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সন্নিকটে কলেজ রোড রেললাইনের পাশেই বকুল মিয়ার চা স্টল। এ স্টলে ঢুকতেই চোখে পড়ে মেস ভাড়ার অভিনব বিজ্ঞাপন।
এ সম্পর্কে চা স্টল মালিক বকুল মিয়া (৩৫) জানান, ‘নিয়মিতই কয়েক মাস পর পর মেস মালিক এ ধরণের বিজ্ঞপ্তি দেন। মেস মালিকদের ম্যানেজার বা কর্মচারীরা এ ধরণের কাগজ আমাদের দেয়ালে সাঁটিয়ে দিয়ে যান।’
শহরের কাঁচিঝুলি এলাকায় বিভিন্ন মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থী তরিকুল, আলমগীর, সারোয়ার, মোস্তফা, ঝন্টু, সজিব, আলম ও তপন বলেন, ‘যে হারে শহরে স্কুল-কলেজ হচ্ছে সেই হারে ছাত্রাবাস হচ্ছে না। ফলে লেখাপড়া করতে বাধ্য হয়েই মেসে থাকতে হয়।’
তবে এসব শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘মেস পেতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয় না। চা স্টলে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি দেখে মালিককে মুঠোফোনে কল করে বনিবনা হলেই মেসে ভাড়া মেলে। এজন্যে প্রতি মাসে গড়ে একজন শিক্ষার্থীকে মেস ভাড়া বাবদ গড়ে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা গুণতে হয়।’
মেস ভাড়ার এ অভিনব বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে শহরের সানকিপাড়া এলাকার আব্দুল আইয়াল নামের এক মেস মালিক জানান, ‘শহরে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই কারণে-অকারণে চা স্টলে ঢু মারেন। মেস যাতে খালি না থাকে সেইজন্যে দ্রুত ও সময়োপযোগী হিসেবে এ বিজ্ঞাপন বেশ কাজে লাগে।’
সূত্র জানায়, মেস মালিকরা শহরের চা স্টলগুলোতে অভিনব এ বিজ্ঞাপন সাঁটিয়ে দিয়ে মেসে শিক্ষার্থী তুললেও ভাড়া আদায়ের পর এদের কোন রশিদ দেওয়া হয় না। মালিককে দিতে হয় না আয়করও। ফলে যখন-তখন নিজেদের ইচ্ছামতো মেস মালিকরা ভাড়া বাড়ান।
আরও জানা গেছে, মেস মালিকদের যেমনি কোন সংগঠন নেই তেমনি ভাড়াটিয়াদেরও কোন সংগঠন নেই। ফলে ময়মনসিংহ শহরে মেস বাণিজ্য রমরমা। অরাজক পরিস্থিতিও চলছে একদিন-প্রতিদিন।
বাংলাদেশ সময়: ০৩৪১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৩
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর