সিলেট: সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের আজাদ-রণজিত ও শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী সংর্ঘষে ১০ জন আহত হন। এছাড়া ৯টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে স্বাগত জানানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংর্ঘষ শুরু হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলো আজাদ-রণজিত গ্রুপ। আজাদুর রহমান আজাদ স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর ও রণজিত সরকার জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। গ্রুপটির প্রধান নেতা কয়েকদিন আগে বেশ কিছু নেতাকর্মী নিয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপির গ্রুপে যোগ দেন।
এরপর থেকেই শুরু হয় এমসি কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দ্বন্দ্ব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজাদ-রণজিত গ্রুপ অবস্থান নিতে থাকে। বেলা ১১টায় কলেজ গেটে প্রবেশ করা মাত্রই এমপি গ্রুপকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেন আজাদ-রণজিত গ্রুপের অর্ধশত নেতাকর্মী। তখনই শুরু হয় সংঘর্ষ। সংর্ঘষে উভয়পক্ষকে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। এ সময় অনেকেই মাথায় হেলমেট পরে সংঘর্ষে অংশ নেন।
মুখোমুখি সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পিছু হটে আজাদ-রণজিত গ্রুপ টিলাগড় পয়েন্টের ভুট্টো হোটেলের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় কলেজে ফেলে যাওয়া আজাদ-রণজিত গ্রুপের ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন শফিকুর গ্রুপের কর্মীরা।
পরে এমপি গ্রুপ কলেজ থেকে টিলাগড় পয়েন্টে আজাদ-রণজিত গ্রুপকে ধাওয়া করতে বের হলে আজাদ-রণজিত গ্রুপ পাল্টা ফাঁকা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় ভুট্টো হোটেলের সামনে ফেলে যাওয়া আরো ৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এমপি গ্রুপ। এরপর ক্যাম্পাসের একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘হইহহ রই রই, আজাদ-রণজিত গেলো কই’ স্লোগান দিয়ে একটি সমাবেশও করেন এমপি গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
সংঘর্ষের সময় এমপি গ্রুপের মহানগর যুবলীগ নেতা আসাদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ব্যাপারে এমপি গ্রুপের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাবলা বাংলানিউজকে জানান, ‘‘আমরা সহাবস্থানের জন্য এমসি কলেজে গেলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ও গুলি করেন।’’
অপরদিকে আজাদ-রণজিত গ্রুপের নেতা জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু অভিযোগ করেন, ‘‘চাঁদাবাজি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পঙ্কজকে বহিষ্কার করা হয়। এখন পঙ্কজ দলে পদ ফিরে পেতে এমপি গ্রুপে যোগ দিয়ে এমসি কলেজের ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছেন।’’
সংর্ঘষের আধা ঘণ্টা পর আজাদ-রণজিত গ্রুপ টিলাগড় পয়েন্ট দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শফিকুর রহমান এমপি গ্রুপ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাবলার নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়া দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মাথায় হেলমেট পরে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌঁড়াতে থাকেন। এদিকে কোনো রকমভাবে নবীণবরণ অনুষ্ঠান শেষ করা হয় বলে কলেজ সূত্রে জানা যায়।
সংঘর্ষের শুরু থেকে শাহপরান থানা পুলিশের ওসি লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি পুলিশের দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ব্যাপারে ওসি লিয়াকত বাংলানিউজকে বলেন, একপক্ষ আরেকপক্ষকে হটিয়ে দিয়ে কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর বাইরে ওসি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ধীরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, সংঘর্ষের শুরুতেই পুলিশকে জানানো হয়। সংঘর্ষ শুরু হলে ভয়ে কিছু ছাত্র চলে গেলেও অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটেনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৪০৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
এসএ/ সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com