 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: স্বাধীনতার ৪১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বসুন্ধরা সিমেন্ট শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’র চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিজয়ীরা পেয়েছে পুরস্কার ও সনদপত্র।
বুধবার বিকেলে খুদে চিত্রশিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। এ সময় মুহুর্মুহু করতালি আর বিজয়ানন্দের উল্লাসে ফয়’স লেক সি ওয়ার্ল্ডের মিলনায়তনটি মুখর করে তোলেন অভিভাবক ও খুদে শিল্পীরা।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে শিল্পের প্রতিটি সেক্টরে বিনিয়োগ করছে। তারা দেশ গড়ার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘‘গুণগত মানসম্পন্ন বসুন্ধরা সিমেন্ট পণ্য চট্টগ্রামের বাজারে এলে আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেব। আশা করি, বসুন্ধরা সিমেন্ট আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও বসুন্ধরার পণ্যের প্রচার-প্রসারে অবদান রাখবেন।’’
বসুন্ধরা গ্রুপের সিমেন্ট সেক্টরের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক) আসিফ চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের সিমেন্ট সেক্টরের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মো. শামীম আল মামুন, ফয়’স লেক সি ওয়ার্ল্ড কমপ্লেক্সের জেনারেল ম্যানেজার আনিসুর রহমান।
আসিফ চৌধুরী বলেন, ‘‘বাচ্চারা ছবি আঁকার সময় দেখেছি, তাদের চমৎকার কালার কম্বিনেশন। নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার কথা জানানোর জন্যই বসুন্ধরা গ্রুপের এ আয়োজন। জাতীয় পতাকায় তারা বাংলাদেশের মানচিত্র এঁকে প্রমাণ করেছে, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তারা অনেক কিছুই জানে।’’
নেপোলিয়নের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বিপুল সংখ্যক মায়ের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বসুন্ধরার ব্র্যান্ড ম্যানেজার মো. শামীম আল মামুন বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে’ স্লোগান বসুন্ধরা গ্রুপের। বসুন্ধরা সিমেন্টের এ আয়োজনে সারা দেশ থেকে জমা পড়েছিল ৪ হাজার ছবি। ১৮ মে রাজশাহী থেকে শুরু হয় বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো দ্বিতীয় পর্যায়। ঈদের পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মার্কেটিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ মো. সোহরাব হোসেন।
এর আগে শুক্রবার বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে শুরু হয় দেড় ঘণ্টার বিভাগীয় প্রতিযোগিতা। নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, বান্দরবান, কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজয়ী হয়ে শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ৩টি বিভাগে বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
ক বিভাগে ‘স্বাধীনতা’, খ বিভাগে ‘স্বাধীনতার আনন্দ’ ও গ বিভাগে ‘স্বাধীনতার বন্ধন’ বিষয়ে শিশুদের অাঁকা বর্ণিল সব ছবিতে মেধার পাশাপাশি প্রকাশ পেয়েছে খুদেশিল্পীদের অন্তরে লুকিয়ে থাকা দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা তাসমিনা জান্নাত অর্পাকে নিয়ে এসেছেন প্রতিযোগিতায়। তিনি বলেন, ‘‘কুমিল্লা জেলায় ক বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে অর্পা। সি ওয়ার্ল্ডে আমি আর আসিনি। এবারই মেয়ের প্রতিযোগিতা উপলক্ষে এলাম। খুবই চমৎকার জায়গা। বাচ্চাও খুব খুশি।’’
প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রসঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের সিমেন্ট সেক্টরের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম হেলালী বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন। এটি আমাদের বিভাগীয় পর্যায়ের শেষ প্রতিযোগিতা। এখানে যে ৬৬ জন খুদেশিল্পী অংশ নিয়েছে, তারা জেলা পর্যায়ে তিন গ্রুপের প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান অধিকারী। এর মধ্য থেকে ৩টি বিভাগে ৯ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।’’
কেমন সাড়া পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা অভিভূত। ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমাদের মনে হচ্ছে, বসুন্ধরা সিমেন্ট বাজারে আসার আগেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।’’
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে ৩টি বিভাগে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে যথাক্রমে ল্যাপটপ, ১০ হাজার টাকা ও ৫ হাজার টাকা। বিশেষ পুরস্কারসহ মোট পুরস্কার থাকবে ৩০টি।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে রয়েছেন দেশবরেণ্য শিল্পী হামিদুজ্জামান খান ও শিল্পী সৈয়দ আবুল বারক আলভী।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২১ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এআরএম/ সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর