 |
ঢাকা: ইরানে পরপর দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ জনে। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৩০০ মানুষ।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের তাবরিজ শহরে প্রথম ও তাবরিজের ৪৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের এলাকায় দ্বিতীয় দফায় এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ ৪০ জনের মৃত্যু খবর নিশ্চিত করলেও পরে আরো মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫৩ মিনিটে তাবরিজ শহরের ৬০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে ভূ-পৃষ্ঠের ৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে প্রথম ভূমিকম্প হয়।
এর ১১ মিনিট পর তাবরিজের ৪৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একই গভীরতায় দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়। এরপর তিনটি পরাঘাত হয়েছে বলেও রয়টার্স জানিয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে ১৫ লাখ জন অধ্যুষিত ইরানের তাবরেজ এবং সীমান্তের ওপারে প্রতিবেশী আর্মেনিয়াতেও ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রথম ভূমিকম্পটি ৬ দশমিক ২ মাত্রার ছিলো বলে জানিয়েছে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসমোলজিকাল সেন্টার। এর কেন্দ্র ছিলো তাবরেজ শহরের ৬০ কিলোমিটার দূরে। এর অল্প কিছুক্ষণ পরই রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় একই এলাকায়।
সারা বিশ্বে অনুভূত ভূমিকম্পের ওপর গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৬ দশমিক ৪ মাত্রার। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ছিলো বলে জানায় তারা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত হলেও পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সময় তাবরেজ এবং আহার শহরের লোকজন আতঙ্কে রাস্তাঘাটে বের হয়ে আসেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যন্ত গ্রামগুলোই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের তাবরিজ ও আহার শহরের কাছে এ ভূমিকম্প হলেও নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক গোলামেরেজা মাসুমির উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানায়, “সর্বশেষ খবরে ভূমিকম্পে ৪০ থেকে ৫০ জন নিহত হওয়ার কথা জানা গেছে। এছাড়া ৪০০ জনের মতো আহত হয়েছেন।” স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা কেন্দ্রের প্রধান খালিদ সাইয়ের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৮৭ জন বলে জানায়। তাদের মধ্যে আহারে ৩০ জন, ভারজাগানে ৪০ জন ও হারিসে ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়। সে পর্যন্ত আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০০ জনে। রাতের পরে ১৫৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইরানের আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা জানায়, ভারজাগান ও আহার শহরে ধসে পড়া ভবন থেকে অন্তত ২১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরানের ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর আহমাদ আলী রেজা বেইগি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, তাবরিজে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
আহার শহরের বাসিন্দা আব্বাস ফাল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের আধা সরকারি মেহর বার্তা সংস্থা জানায়, “৬০টি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সহায়তা প্রয়োজন।”
ভার্জান শহরের কাছে দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয় জানিয়ে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, “এ ভূমিকম্প এতো শক্তিশালী ছিল যে, আতঙ্কে সবাই রাস্তায় বের হয়ে আসেন।”
ভূমিকম্পে টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
এর আগে ২০০৩ সালে ইরানের বাম শহরে ভূমিকম্পে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
বাংলাদেশ সময়: ০৫৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর