৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, সোমবার মে ২০, ২০১৩ ১২:৪৫ পিএম BDST banglanew24
15 Oct 2012   05:50:29 PM   Monday BdST
E-mail this

রেলের নিয়োগে দুর্নীতি

ইউসুফ মৃধাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত, আদালতে আবেদন


রমেন দাশগুপ্ত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ইউসুফ মৃধাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত, আদালতে আবেদন রেলের নিয়োগে দুর্নীতি
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম: নিয়োগ কেলেঙ্কারির হোতা ও রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা সহ বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত  নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদি এস এম রাশেদুর রেজার পক্ষে দুদকের চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদুল হক তাদের গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। একই আবেদনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথাও বলা হয়েছে।

মাহমুদুল হকের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা মামলার আলমত নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এছাড়া দেশের বাইরে পালিয়ে যাবারও পরিকল্পনা করছেন।

পিপি মাহমুদুল হক বাংলানিউজের কাছে তিন আসামীকে গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি প্রার্থনার কথা স্বীকার করেছেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ৬টি পদে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালী থানায় ইউসুফ আলী মৃধা সহ বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করে দুদক।
 
মামলার অপর দুই আসামি হলেন রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বরখাস্ত হওয়া সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার গোলাম কিবরিয়া ও অতিরিক্ত প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। হাফিজুর রহমান ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও গোলাম কিবরিয়া সদস্য সচিব ছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর এজাহারনামীয় তিন আসামীকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়ে কমিশনের কাছে গত ১১ অক্টোবর একটি আবেদন জানান মামলার বাদি ও দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা।

ওইদিনই দুদকের উপ-পরিচালক (বি:অনু ও তদন্ত-১) মো.আক্তার হোসেন মামলার বাদির বরাবরে একটি পত্র (স্মারক নং-দুদক/বি:অনু ও তদন্ত-১/সি-৪১/২০১২/২৭৭৬১) দিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামীকে গ্রেপ্তারে দুদকের অনুমোদনের কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন দরখাস্ত করার আদেশ দেন।

এ আদেশের পর ওইদিনই মামলার বাদি এস এম রাশেদুর রেজা দুদকের চট্টগ্রামের পিপি`র কাছে তিন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন জানানোর জন্য ২৭৭৬৩ নম্বর স্মারকমূলে একটি পত্র দেন।

এরপর দুদকের চট্টগ্রামের পিপি মাহমুদুল হক সোমবার ৬টি মামলায় পৃথক পৃথকভাবে গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে ৬টি আবেদন করেন। আবেদনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

তবে আদালত কোন আদেশ না দিয়ে পর্যবেক্ষণ সহ আবেদনটি নিস্পত্তি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, `তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। দুদক আইনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সেই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আদালতকে বিষয়টি অবহিত করতে হয়। আমি গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছি।`

উল্লেখ্য নিয়োগ পরীক্ষায় যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে অনিয়মের জন্য মামলা হয়েছে সেগুলো হলো, টিকিট ইস্যুয়ার, সহকারী ক্যামিস্ট, সহকারী লোকো মাস্টার, ট্রেড এ্যাপ্রেনটিস, ফুয়েল চেকার ও টুল কিপার।

১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দন্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ৪৭৭(ক), ২১৭ ও ১০৯ ধারায় এসব মামলা দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ছয়টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১০ সালে। গত বছরের থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ৬টি ক্যাটাগরির ১০৬৯ টি পদের বেশিরভাগ পদেই মোটা অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় ৩৯ জনের বক্তব্যে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর ৬টি মামলা দায়ের করে দুদক।

চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাতে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে বস্তাভর্তি ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এসময় ফারুকের সঙ্গে ছিলেন ইউসুফ আলী মৃধা ও রেল পুলিশের কমান্ড্যান্ট (ঢাকা) এনামুল হক।

এ ঘটনার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন ঘটনা তদন্তে উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যান রেলের পূর্বাঞ্চল অফিসে। সেখান থেকে জব্দ করা নথিপত্রে দেখা যায়, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস পদে ১২১৬ কোড নম্বরধারী লিখিত পরীক্ষায় পেয়েছেন মাত্র ২ নম্বর। তা পরিবর্তন করে ২৫ নম্বর দেখিয়ে তাকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

৩৫টির বেশি কোড নম্বরের খাতায় কাটাছেড়া করে নম্বর দেওয়া হয়েছে। টেবুলেশন শিটে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে এরকম অসংখ্য অকৃতকার্যকে দেখানো হয়েছে কৃতকার্য। সবচেয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে ১১২ জন চৌকিদার, ৩৬৯ জন ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ২৪৮ জন সুইপার, ১৪৩ জন ট্রলি ম্যান, ১৫ জন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর ও ১৮২ জন লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে।

সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পদে লিখিত পরীক্ষায় ৯৫ জনের মধ্যে সাত জন মাত্র মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১১ জনকে। এর মধ্যে ছয় জনই মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।

বাংলাদেশ সময় : ১৮ ০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৫,  ২০১২
আরডিজি, সম্পাদনা : টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান