 |
অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয়
অনেককাল ধরে
আরেকটি বিজয় দেখতে খুব সাধ জাগে,
ঘোর অমানিশা রাতে
জোনাকির আলোয় পারি না দেখতে!
দিনের ক্ষিপ্র সূর্যের প্রতাপী কিরণে-
গ্রাম্যবধূর নকশিকাঁথা বুননের মতোন
হৃদয়ে গাঁথি সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের স্বপ্ন।
হঠাৎই তীক্ষ্ণ সূঁচের খোঁচায়
বৃদ্ধাঙ্গুলের রক্ত ফিনকি দিয়ে ছোটে!
অতঃপর! বারান্দার পাশে অযতনে পড়ে থাকে
অসম্পন্ন, লক্ষ্যচ্যুত স্বপ্নকাঁথা।
এখনো বাধার সীমানা পেরিয়ে
দু’চোখের রেটিনা চমকিত হয় নি কাঙ্ক্ষিত বিজয়ে!
গণতন্ত্র যখন গণধর্ষণতন্ত্র
ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে নিজস্ব গতিতে,
গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে চন্দ্রহীন রাত।
বাঁশঝোঁপের পাশে মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে
সামনের পথ দেখায় একগুচ্ছ জোনাকি,
ভোরের আলো বেরুতে শুরু করেছে,
পূর্বকোণ জুড়ে রক্তিম ছিটে ফোঁটা জানান দিচ্ছে প্রভাতের!
তাই, কিচির মিচির কলরবে পাখির দল মুখরিত করছে চারপাশ।
পাখিগুলোর মুক্ত রবের বহিঃপ্রকাশে
কর্মব্যস্ততা আর চাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে মানুষজন।
শ্বেত পায়রার ঝাঁকও ডানা মেলে
পাড়ি জমিয়েছে নীলাভ খোলা আকাশে।
পাখিদের স্বাধীনতা, মুক্ত কলধ্বনি
স্বতঃস্ফূর্ত জীবন নির্বাহের প্রতীক
হিশেবে জোনাকির ঐ আলোর মতন
পথ দেখায় শত-সহস্র প্রতিকূল অন্ধকারেও।
আর আমরা মানুষ, বিষাক্ত এ পরিবেশে
আমাদের সত্য-স্পষ্ট কথা মুক্তভাবে
আলোচনা করতেও প্রয়োজন পড়ে চরম সাহসের!
প্রত্যেক মানুষ তাঁর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে
মুখে লাগাম লাগিয়ে, হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে বন্দী,
কেননা, এ পশ্চাদ্মুখী অবস্থায় প্রাসঙ্গিক কোনও বচন
প্রকাশ করতেও দরকার অসীম সাহস ও ক্ষমতার জোর।
যে ক্ষমতালিপ্সু ক্ষমতায় আসে,
তার মুখে মিথ্যার ফেনা উঠে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্রকে সুসমৃদ্ধ করবার!
কিন্তু, এখানকার বনে-জলে-জঙ্গলে কিংবা মাটির চতুর্দিকে
বুলি আওড়ানো গণতন্ত্র একনায়কতন্ত্রের প্রকারান্তে
মানসিক ও দৈহিক গণধর্ষণতন্ত্রের পাতানো
ফাঁদের জালের মতো ব্যাপকাকারে আবৃত-বিস্তৃত।
অধিকার
ঘুম নেই দু’চোখে, সামনে অষ্টাদশীর ঘনকালো
চুলের মতো গহীনতর অন্ধকার!
চারপাশে শুধুই ভাসে হাহাকারের ব্যথিত ক্রন্দন ধ্বনি
অচেনা বিক্ষিপ্ত রোষে ফেটে পড়ে বঞ্চিতের চিৎকার।
নির্বিকার ভূমিকায় ব্যক্ত আমার ব্যর্থ প্রয়াস!
তোমাদের দৃষ্টিতে যা বিমূর্ততার আলোক সম স্পর্শ করে!
গভীর রাত, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ!
সারা পৃথিবী ব্যস্ত চাঁদের সাথে মধুর সম্ভোগের নেশায়
আর আমি একাকী নিঃসঙ্গতার বিস্তৃত মাকড়সার জাল থেকে
বেড়িয়ে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে নিরবধি রচে যাচ্ছি
মহাকালের নতুন দিগন্ত সূচিত পথ,
যার অংকিত সীমারেখা ধরে হাঁটতে চাই
তোমাদেরকে এক কাতারে সঙ্গে নিয়ে
দূর হতে বহুদূর এন্টার্ক্টিকার
হিম হিম বরফ গলা ঠাণ্ডাকে অতিক্রম করে
যেখানে অন্তর্নিহিত জীবনে বেঁচে থাকার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য,
তোমার-আমার-সবার নায্য অধিকার।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, ০২ অক্টোবর, ২০১২