 |
| ছবি: সবিতা রহমান /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা : আসন্ন বাজেটে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পরিকল্পনাভিত্তিক বরাদ্দ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন। স্মারকলিপিতে তারা বিদেশি অর্থ সাহায্যের দিকে না তাকিয়ে জাতীয় বাজেটে জলবায়ুর জন্য একটি নিদিষ্ট বাজেট রাখার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী এ সংগঠনগুলো।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
‘আসন্ন জাতীয় বাজেট (২০১২-১৩) উপলক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকল মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে জলবায়ূ অভিযোজন সমন্বিতকরণ’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জ’র প্রধান সমন্বয়কারী ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাজেটে জলবায়ু নিয়ে বিশেষ বরাদ্দ রাখার জন্য ২০ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা (সংসদ সদস্য) বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মলনে জানানো হয়।
১১টি প্রস্তাবনার এ স্মারকলিপিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়, এবারের বাজেটে পরিবেশ রক্ষায় যথেষ্ট বরাদ্দ দিলেই হবে না। পরিবেশবিরোধী তৎপরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। ছিটেফোঁটা অপরিকল্পিত প্রকল্প দিয়ে শুধু অর্থের অপচয় না করে, পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত পানি, নদী, বন, জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক জাতীয় নীতিমালার পুনর্মূল্যায়ন এবং সে অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের (সিডিপি) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে যে খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা চিহ্নিত করে তার জন্য বিশেষ বরাদ্দ বাজেটে রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার একদিকে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে কিছু সুবিধাভোগী বিশেষ মহলের সহযোগিতায় দেশের নদী-খাল-জলাশয় দখল ও দূষণ, বনভূমি ধ্বংসসহ পরিবেশ বিধ্বংসী অপকর্ম অবলীলায় চালিয়ে যেতে সাহায্য করছেন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু নিয়ে আন্দোলন করে যে অর্জনটুকু হয়েছে, তার ফলাফল শূন্য হবে।
এ স্মারকলিপিতে সমর্থন দিয়েছে সেগুলো হলো বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বাংলাদেশ (এনসিসিবি), বাংলাদেশ ইনডিজিনিয়াস পিপলস নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি, ক্লাইমেট ফাইনেস গভর্নেন্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, ভয়েস, অনলাইন নলেজ সোসাইটি, সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জ, ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএর), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিডিপি), বাংলাদেশ কৃষাণী সভা, হিউম্যানিটি ওয়াচ, প্রাণ, ক্লাইমেট চেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিসিডিএফ)।
বাংলাদেশ সময় : ১৩১০ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১২
এনএম/ সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর