১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, রবিবার মে ২৬, ২০১৩ ৮:২১ এএম BDST banglanew24
27 Jan 2013   11:01:02 AM   Sunday BdST
E-mail this

বিমানে অনিয়ম-১

অকৃতকার্য বৈমানিককে পাস নম্বর, যাত্রীরা হুমকিতে


ইশতিয়াক হুসাইন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অকৃতকার্য বৈমানিককে পাস নম্বর, যাত্রীরা হুমকিতে বিমানে অনিয়ম-১

ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অনিয়মই এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিণত হয়েছে। অকৃতকার্য বৈমানিকদের পাস করিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে এখন বিমানে। ক্ষমতাশালীরা প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের জন্য নিজের সন্তানকে এভাবেই বৈমানিক হিসেবে তৈরি করছেন। আর এতে করে জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন বিমানে আকাশপথে যাতায়াতকারী শত-সহস্র যাত্রী।

বাংলানিউজের অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। ২০১০ সালে ১০ ক্যাডেট বৈমানিককে নিয়োগ দেয় বিমান। এদের নিয়োগ দেওয়ার আগে বিমান লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমিয়ে ৫০ করে। এর আগে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৭০। লিখিত পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় জনকে পেছনে ফেলে কর্তৃপক্ষ বেসিক অ্যান্ড টাইপ পরীক্ষার মাধ্যমে পরের দিকের চারজনকে প্রথম দিকে নিয়ে আসে।

এটি করেই ক্ষ্যান্ত হয় নি বিমান কর্তৃপক্ষ। অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বারবার পরীক্ষা দিয়ে পাস না করার পরও এদের চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। বিমানের নিয়ম অনুযায়ী কেউ যদি প্রশিক্ষণ চলাকালে বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা ফেল করে তার চাকরিতে থাকার কথা নয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও একইভাবে চাকরিতে বহাল রয়েছেন ক্যাডেট পাইলট মুনজারিন।

দুই বছরেও মুনজারিন গ্রাউন্ড ট্রেনিং, সিমুলেটর ও এয়ারক্রাফট ট্রেনিং সম্পন্ন করতে পারেন নি। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে ক্যাডেট বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ দিতে। অথচ এসব পরীক্ষায় পাস করতে পারছেন না এই দুই ক্যাডেট বৈমানিক। কারণ এই বৈমানিকের পিতা একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। আর তার প্রভাবে সব অনিয়ম নিয়মে পরিণত করে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।

অন্যদিকে, কেবিন ক্রু ওয়াহিদার মেয়ে অন্তরা বৈমানিক হিসেবে নিয়োগ পান বিমানে। এরপর গ্রাউন্ড ট্রেনিং সম্পন্ন হয় তার। এই ট্রেনিং শেষে সিমুলেটর ও এয়ারক্রাফট ট্রেনিং করেন তিনি।

সিমুলেটর ও এয়াক্রাফট ট্রেনিং করতে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ মাস লাগার কথা। কিন্তু বারবার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেন নি ওই নারী বৈমানিক। বারবার ফ্লাইট ট্রেনিংয়ে খারাপ করা সত্ত্বেও তাকে বাদ না দিয়ে বহাল রাখা হয়েছে চাকরিতে। শেষ পর্যন্ত তার মা কেবিন ক্রু হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে মেয়েকে ফার্স্ট অফিসার বানান।

নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। যে কারণে কোনো ক্যাপ্টেন তাকে নিয়ে ফ্লাইটে যেতে রাজি নন। এ অবস্থায়ও ওই নারী বৈমানিককে চাকরিতে রাখা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, চাকরি বাঁচাতে তাকে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে ফ্লাইট করতে বলা হয়েছে।

বিমানের একজন সিনিয়র বৈমানিক বাংলানিউজকে বলেন, যাত্রীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার বিমান কর্তৃপক্ষের নেই। আকাশপথে শত শত যাত্রী নিয়ে যে বৈমানিক ফ্লাইট করবেন, কেবলমাত্র ক্ষমতার জোরে তাকে পাস করিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ প্রসঙ্গে ওই সিনিয়র বৈমানিক আরো বলেন, এতে বিমানের ট্রেনিং বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অর্থের অপচয় হচ্ছে।

যে প্রশিক্ষণ ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা ওই জুনিয়র বৈমানিকরা তা শেষ করেছে প্রায় দুই বছরে। এর মধ্যে একজন এখনো ট্রেনিং শেষ করতে পারেননি।

নিয়োগ পাওয়ার পর এই ১০ পাইলটকে এক সঙ্গে ট্রেনিং করানোর কথা ছিল, এটাই নিয়ম। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ তাদেরই এক পাইলটের সন্তান, এক শিল্পপতির সন্তানসহ চারজনকে আগে ট্রেনিংয়ে পাঠায়।

ট্রেনিং না করে বসে থাকায় ছয় বৈমানিককে আবার নতুন করে ফ্লাইং ক্লাব থেকে ট্রেনিং নিতে হবে। দুই বছর বসে থাকায় তাদের নতুন করে লাইসেন্সও নিতে হবে। ট্রেনিং করতে না পারায় বিমানে তাদের নিয়োগ হলেও চাকরি স্থায়ী হয়নি।

বিমান কর্তৃপক্ষ লিখিত পরীক্ষা, বেসিক অ্যান্ড টাইপ ও জিটিসির (গ্রাউন্ড ট্রেনিং সেন্টার) পরীক্ষার নম্বর এক সঙ্গে যোগ না করে শুধুমাত্র বেসিক অ্যান্ড টাইপ পরীক্ষার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে একেবারে শিক্ষানবীশ পাইলটদের চারজনকে সিমুলেটর ট্রেনিংয়ে পাঠায়। সিমুলেটর শেষে এদের বোয়িং ৭৩৭-এর মতো বড় উড়োজাহাজে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

অথচ যাদের বসিয়ে রাখা হয় তারা লিখিত পরীক্ষায় প্রথম দিকে ছিলেন। এদের প্রত্যেকের ৫০০ থেকে ১৫০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ ছিল। আর ওই চারজনের কারোরই ১৫০ ঘণ্টার বেশি ট্রেনিং ছিল না।
 
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে বিমানের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদের সঙ্গে শনিবার রাতে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে এর আগে তিনি বাংলানিউজকে বলেছিলেন, নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হচ্ছে। প্রয়োজন হয়নি বলে সব ক্যাডেট বৈমানিককে এক সঙ্গে ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়নি।  

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৭, ২০১৩
আইএইচ/আরআর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান