 |
ঢাকা: পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে ‘বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে অভিযোগ করেছেন দুর্র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।
রোববার বিকেলে দুদকের সভা কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক দুদককে সহযোগিতা করেনি। আমরা তাদের কাছে তথ্য জানতে চেয়েছি। তারা জানায়নি।’
গোলাম রহমান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক চলতি বছরের এপ্রিলে পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য (Suppleminta Referral Information) কমিশনকে হস্তান্তর করে। এতে বলা হয়, এসএনসি-লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহার নোট বইয়ে হাতে লেখা ‘Percentage to be allotted to specified persons is connection with the award CSC contact’ সংক্রান্ত তথ্য Integrity Vice president-র হাতে থাকা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘রমেশ সাহার নোট বইয়ে নামগুলো সাংকেতিকভাবে লেখা এবং তা থেকে একটা সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ সম্ভাব্য তালিকা ছাড়া বিশ্বব্যাংক আর কোনো তথ্য দেয়নি।’
‘বিশ্বব্যাংক অন্যান্য তথ্য দিতেও অপারগতা প্রকাশ করেছে’ বলেও অভিযোগ করেন দুদক চেয়ারম্যান।
কানাডীয় তদন্ত প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কানাডীয় তদন্ত সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশির কথিত দুর্নীতিতে জড়িত থাকার তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়নি।’
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল ২৩ থেকে ২৫ জুন ঢাকা সফর করেন। তারা পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে। তারা আমার সঙ্গে, দুই কমিশনারের সঙ্গে এবং দুদকের আইন উপদেষ্টার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে।’
গোলাম রহমান বলেন, ‘যে অভিযোগে পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিল করা হয়েছে তা সঠিক মনে করি না।’
পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আইনের পরিধির মধ্য থেকে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বস্ততার সঙ্গে অনুসন্ধান করছে দুদক।’
ঋণ চুক্তি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও কমিশনের আইনি কার্যক্রম চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক অভিহিত করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিবাদ জানানো হবে।’
অনানুষ্ঠানিক এ ব্রিফিংয়ে দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন দুদকের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আনিসুল হক ও কমিশনার সাহাবউদ্দিন চুপপু।
ব্যারিস্টার আনিসুল হক বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক দুদকের অনুসন্ধান টিমের সঙ্গে তাদের একটি প্যানেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্যানেল দুদকের অনুসন্ধানে যুক্ত থেকে তদন্ত পর্যবেক্ষণ করবে। দুদক যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে বিশ্বব্যাংকের প্যানেলের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তাদের এ প্রস্তাবে দুদক রাজি হয়নি।’
রাজি না হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী এর কোনো সুযোগ নেই।’
দুদক কমিশনার সাহাবউদ্দিন চুপপু বলেন, ‘আমরা আমাদের আইনের মধ্য থেকে বিশ্বব্যাংককে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।’
পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকে পাঠানো দুদকের চিঠি ও প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৪ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০১২
এডিএ
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর