ঢাকা: ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইউএনসিটিএডি) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০১২ অনুসারে ২০১১ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) সম্মেলনকক্ষে ইউএনসিটিএডির রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিওআই চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, বিওআই নির্বাহী সদস্য নবাস চন্দ্র মন্ডল প্রমুখ।
রিপোর্ট উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে ২০১১ সালে পুরো বিশ্বে বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশ। আর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৯১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১১ সালে তা বেড়ে ১১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে বিনিয়োগ হয় ১০৮ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর ২০০৯ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ হয় ৭০ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
এর পরবর্তী বছরগুলোতে এ ধারাবাহিকতা কেন অব্যাহত রাখা গেল না এ বিষয়ে বিওআই সদস্য বিভাস চন্দ্র মন্ডল বলেন, “২০০৭ সালে বিদেশি বিনিয়োগ হয় ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। আর ২০০৯ সালে বিনিয়োগ হয় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার। আর মাঝের যে বছর ১০৮ কোটি ডলারের মধ্যে ৬০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে টেলিকম খাতে। এ খাতটি বাদ দিলে প্রকৃত পক্ষে বিনিয়োগ কমেছে।”
রিপোর্ট উপস্থাপনকালে এম ইসমাইল হোসেন বলেন, “বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে গিয়েছিল। সে অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটেছে। তবে ২০০৭ সালের অবস্থানে যেতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।
এদিকে আলোচ্য সময়ে সামগ্রীক বিদেশি বিনিয়োগের বাড়লেও গ্রিনফিল্ড ইনভেস্টমেন্ট কমেছে ১৬ শতাংশ। ২০১০ সালে এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১১ সালে তা কমে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে নেমে গিয়েছে। তবে পুনর্বিনিয়োগ ৩৬ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার থেকে ৩৪ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ২০১১ সালে ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ইন্ট্রা-কোম্পান লোন ২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার থেকে ৬৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ২১ কোটি ৪৯ লাখে উন্নীত হয়েছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, “সরকার ঘন ঘন ট্যাক্স নীতিমালার পরিবর্তন করে, যা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। তারপরও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ আগে অনেক বিদেশি সহায়তা পেত, এখন তা পাচ্ছে না। তাই বিদেশি বিনিয়োগের ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হয়। আর বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশ ভ্রমণ করেন ৬০-৭০ জন প্রতিনিধি নিয়ে যান।”
এছাড় বিনিয়োগ বোর্ড পুরোপুরিভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, “আমাদের দেশের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সামগ্রীক অবস্থার বিশ্লেষণে আমরা এগিয়ে রয়েছি।”
রিপোর্ট প্রকাশকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর