১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শুক্রবার মে ২৪, ২০১৩ ১১:৪৭ পিএম BDST banglanew24
08 Apr 2011   12:10:08 AM   Friday BdST
E-mail this

বাংলানিউজ স্পেশাল:

শেয়ারবাজারে কারসাজির ২০ নায়ক


আনোয়ারুল করিম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
শেয়ারবাজারে কারসাজির ২০ নায়ক বাংলানিউজ স্পেশাল:

ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কারসাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক ধস সংক্রান্ত ঘটনা তদন্তকারী কমিটি।

বাংলানিউজের বিশেষ অনুসন্ধানে এর সঙ্গে জড়িত ১৮ ব্যক্তি ও ২ মার্চেন্ট ব্যাংকের নাম জানা গেছে।   

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, এদের বাইরে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তবে সময়ের অভাবে তদন্ত কমিটি অন্যদের খুঁজে বের করতে পারেনি।

এবারে আরও তদন্ত করতে হবে বলে সরকারকে সুপারিশ করেছে কমিটি।  

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার জিয়াউল হক, এসইসির দুই নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া ও তারেকুজ্জামান, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মনসুরুল আলম, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু, লুৎফর রহমান বাদল ও তার স্ত্রী সোমা আলম রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের ভাইয়ের কেপিসিএল, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বিসিবির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের উপ-মহাব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, তার স্ত্রী ফারজানা আখতার ও তার শ্যালক মনসুর বিল্লাহ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান ও তার ভাগ্নে আরিফুর রহমান, শেয়ার ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা, শেয়ার ব্যবসায়ী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, শেয়ার ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী খন্দকার এবং দু’টি মার্চেন্ট ব্যাংক রেস ও এল আর গ্লোবাল।       

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার জিয়াউল হক এবং দু’জন নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া, তারেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদনে তাদের অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সাবেক নির্বাহী পরিচালক মনসুর আলমের বিরুদ্ধেও বাজার কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কমিটি মনে করছে পুঁজিবাজারের স্বার্থে মনসুর আলেমের বিরুদ্ধে আরও নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন। এর ফলে তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বড় রাঘব বোয়ালদের নাম বেড়িয়ে আসতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, এসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক মনসুর আলমের মেয়াদ শেষে তাকে আবারও এসইসিতে পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হলে অর্থমন্ত্রীর তাতে সায় ছিল না। তবে ওই সময় সালমান এফ রহমান এবং ডিএসই‘র তখনকার প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানের জোর তদবিরে তাকে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানতে পেরেছে তদন্ত কমিটি।

এছাড়া বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু, লুৎফর রহমান বাদল তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে বাজার কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাজার কারসাজির ক্ষেত্রে ইনভেস্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)’র বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

সংস্থাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, তার স্ত্রী ফারজানা আখতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহর নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট করা হয়েছে।

ওই টাকা পরে কফিলউদ্দিনের নামে এফডিআর করা হয়েছে বলেও জানতে পারে তদন্ত কমিটি।   

ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান তার ভাগ্নে আরিফুর রহমানের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করে বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এছাড়া শেয়ার ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকারসহ আরও কয়েকজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে শেয়ার কারসাজির বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে যে কেস স্টাডিগুলো বিশদ আলোচনা করা হয়েছে তার মধ্যে সালমান এফ রহমানের জিএমজি এয়ারলাইনস, বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খানের ভাইয়ের মালিকানাধীন কোম্পানি কেপিসিএল এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আহম মোস্তফা কামালের সিএমসি কামাল কোম্পানিগুলোর নাম উঠে এসেছে।

এছাড়া পুঁজিবাজার কারসাজির সঙ্গে দু’টি মার্চেন্ট ব্যাংক রেস ও এল আর গ্লোবালের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতবছরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শনৈ শনৈ দরবৃদ্ধির পর হঠাৎ করেই পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটে। এতে নিমিষেই কয়েক হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে হারিয়ে যায়।

তোলপাড় করা এ ঘটনার পর অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২৬ জানুয়ারি এসইসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ।

পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শেয়ার ইস্যুতে সরাসরি তালিকাভুক্তি, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপপ্রয়োগ, শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ, অভিহিত মূল্যে বিশেষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্লেসমেন্ট প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক কারসাজি হয়েছে। সেকেন্ডারি বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন ও ব্লক ট্রেডিংসহ নানা অনিয়ম হয়েছে।

প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পর্যায়ে কারসাজিতে বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক ব্রোকার, ডিলার, ইস্যু ম্যানেজার, অডিটরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসব অনৈতিকতাকে বৈধতা দান ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য এসইসিকে দোষারোপ করেছে কমিটি। তদন্ত কমিটি মনে করে, এসইসি সঠিক দায়িত্ব পালন করলে শেয়ারবাজারে এমন ধস নামত না।

প্রতিবেদনে একটি অনিয়মের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, দু`জন বিনিয়োগকারী অনেকগুলো হিসাব খুলে নিজেদের মোট  লেনদেনের ২৫ শতাংশই নিজেদের মধ্যে করে। এতে তাদের শেয়ারদর মাত্র ৬ দিনের মাথায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

এসইসির অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ করে এসইসি পুনর্গঠন করার সুপারিশের পাশাপাশি তদন্ত কমিটি স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ডিমিউচুয়ালাইজেশন, সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে ব্যবসা ও অমনিবাস হিসাব প্রথা বন্ধ এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সময় টিআইএন নম্বর প্রদানের বিধান করাসহ ২৫টি সুপারিশ করেছে।

সব শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা করারও সুপারিশ করা হয়েছে এতে।

গত দু`বছর আইন লঙ্ঘন করে যেসব ব্যাংক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে, তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে- কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-পরিকল্পনাকে ব্যবহার করে বাজারের স্বার্থান্বেষী মহল অনেক কারসাজি করেছে।

বাজার খেলোয়াড়রা এসইসির ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হলে এসইসি অকার্যকর হয়ে থাকবে এবং শেয়ারবাজারে আবার বিপর্যয় ঘটবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, যদিও ডিএসই পরিচালনা পর্ষদে বহিরাগত ১২ জন পরিচালক রয়েছেন, তবে স্বার্থের প্রশ্নে ব্রোকারদের  থেকে মনোনীত ১২ জনের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় রীতি দেখা গেছে।

শিগগিরই দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশাসনিক বিভাগ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ পৃথক করারও সুপারিশ করেছে কমিটি।

এক্ষেত্রে ডিএসই ডিমিউচুয়ালাইজেশন কমিটির সুপারিশ মোতাবেক কাজ না করলে সরকারকেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আলাদা আলাদা অনুচ্ছেদে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

প্রাইভেট প্লেসমেন্ট : এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, `প্লেসমেন্ট এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।` প্রভাবশালীদের আইপিও মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে প্লেসমেন্ট বরাদ্দ দিয়ে অনেক অনৈতিক কর্মকা- করার ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে এসইসির প্রাইভেট প্লেসমেন্ট সম্পর্কে কোনো বিধিমালা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেন : `সরকারি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। কর্মকর্তারা অনেক সময় ঘুষ হিসেবে প্লেসমেন্ট শেয়ার দাবি করার ঘটনা  দেশের ঘুষ প্রদানের নতুন সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা নিজ নামে না নিয়ে বেনামেও শেয়ার কেনাবেচা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কমিটি সুপারিশে বলেছে, এসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

এসইসি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি : এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে। এতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের (প্রাথমিক ধারণা মতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা) লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আইসিবির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউস বিল্ডিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আকতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহর নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। লেনদেনের ক্ষেত্রে এবি ব্যাংকের মালিকানাধীন এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর ওয়াই শমসের নিজ নামে প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনেছেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রথম দু`জনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় মামলা করা ছাড়াও দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বিভাগীয় মামলা গঠনে দুর্নীতি দমন বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করে। এছাড়া শমসেরকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা উচিত বলে মনে করে কমিটি।

সন্দেহজনক লেনদেন : শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক সম্ভাব্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি সম্পর্কে কমিটি তথ্য পেয়েছে, প্রতিবেদনের পঞ্চম অধ্যায়ে তা উল্লেখ রয়েছে। এক্ষেত্রে যাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মো. সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা, মো. খলিলুজ্জামান, মো. শহিদুল্লাহ, আরিফুর রহমান, সোমা আলম রহমান প্রমুখ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল- আইসিবি, ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুডা), ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রভৃতি।

অমনিবাস অ্যাকাউন্ট : তদন্ত কমিটি বলেছে, সময়ের স্বল্পতার জন্য কমিটি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অমনিবাস অ্যাকাউন্টের কয়েক লাখ হিসাব পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে এসব অ্যাকাউন্টের আড়ালেই শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ডা. এইচবিএম ইকবাল, মুনিরুদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোস্তফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, নিউ ইংল্যান্ড ইকুয়িটি, মোঃ লুৎফর রহমান (বাদল), সোমা আলম রহমান প্রমুখ নিজেরা অনেক লেনদেন করেছেন, যা স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে হয়নি। এক্ষেত্রে এসব অ্যাকাউন্ট বিষয়ে পুনরায় তদন্ত সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

সরকারকে সতর্কতা : তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-পরিকল্পনাকে ব্যবহার করে বাজারে স্বার্থান্বেষী মহল অনেক কারসাজি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে যেকোনো নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের বাজার কারসাজির ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন না করার জন্যও সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে।

ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটি বলেছে, ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভী প্রমুখ। বর্তমান তদন্তে এদের মধ্যে সালমান এফ রহমান এবং রকিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত এসেছে এবং কিছু তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দু`জনই সক্রিয় ছিলেন বলে অনেকের ধারণা।

এসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং মেম্বার মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান ও রকিবের জোরালো তদবির ও সমর্থন ছিল বলে অনেকের বিশ্বাস। বিডি থাই এলুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান এফ রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধর্না দিয়েছেন। জিএমজি, ইউনিক হোটেল প্রভৃতি কেসে সালমান নিজেই সম্পৃক্ত রয়েছেন। কেসগুলো অস্বচ্ছ। এসইসি পরিচালনায় দু`জনেরই অনাকাঙ্খিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০০২২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান