রাতের ছায়ায় রাত
ছায়াতে কে ফেলে গেল আরসিকোলা রাত?
গন্ধমের এক কোণা কে নিল ভেঙে?
অন্য কামরা থেকে একফালি আলো
কু ঝিক ঝিক— দ্রুতগামী ট্রেন নিয়ে গেল সবই।
বিশাল বগি এঁটে নিয়েছে নিজেকে অন্যটার সাথে
সামনে ইঞ্জিনঘরের চোঙ-মাথায় ধোঁয়ার অরোরা
ওড়না’র সাত রঙে মুছে নেয়া মুখ, গোলাপি গোলাপি
টেবিলের ঐপাশে একজোড়া হাত, নিশপিশ নিশপিশ।
‘পিসী একটা গল্প বলো’— টুলটুলে অক্ষরমালা
গোলাপি চুমু ঝরে পড়ে অন্য গোলাপের কচিমুখে
ট্রেন ছুটে যাচ্ছে হকারের চানাচুর স্যাশে নিয়ে
একজোড়া চোখ চুম্বক, লেগে থাকে ওড়নার গায়ে।
আরসিকোলা রাত, বেকুব বাতাস সুনশান সব
ট্রেনের ভেতরেই শুধু চলে, কু ঝিক ঝিক সারারাত।
জং ধরা চাবি
একটা দরজা কোনওদিন খোলা যাবে না
লালসুতোর ডগায় যতই উড়ে যাক ঘুড়ি
বারান্দায় মেলে দেয়া ছটফটে মন
রোদ নিয়ে পালকের গহীনে
যেভাবেই ছুটে যাক আকাশের পালতোলা নৌকো
খোলা যাবে না জং ধরা লৌহ সমাচার।
বন্ধ থাকুক একটা দরজা অনাদিকাল
আর সব বারোয়ারি ঘর রয়েছে উদোম।
সূর্যাভ কেশর
ধুমায়িত কফিমগে ঠোঁট রেখেছে সাধারণ সিংহ। এই মুহূর্তে তাকে কেমন পুরুষ পুরুষ দেখাচ্ছে। সে কি যথার্থ তৃপ্তিদায়ক? গঠনশৈলী অনুযায়ী ওর কপালের উপর লুটানো চূর্ণ কেশর বেশ মানিয়ে যায়। আহা সে তো জানে না পরিপূর্ণ অঙ্গসঞ্চালন ছাড়া তার ভেতরকার হুংকার বাইরে বেরোবে না। সে তবু কফিটুকু চুকচুক করে জিভ না ছুঁইয়ে কণ্ঠনালী পর্যন্ত টেনে নিচ্ছে। এই মুহূর্তে তাকে বেশ মেয়েলী মনে হচ্ছে। কড়া চুরুটের তীব্র ঝাঁঝে মাথার মগজ পর্যন্ত গুলিয়ে নিয়ে সে উঠে দাঁড়াবে জানি। ততোক্ষণে তার হাতে একটা হাজারের নোট ধরিয়ে দিয়ে বলব, বেরিয়ে যাও। এইটুকু বলা বড়ই জরুরি। সিংহ তার কেশর কাঁধের উপর রাখলেই দেখতে ভাল লাগে। কপাল বরাবর যা নেমে আসে তাকে পুরুষালী বা মেয়েলী যেমনই দেখাক না কেন আদতে সে কোন জেন্ডার বহন করে না। বহুকাল একঘরে থেকেও নয়।
সন্ধ্যার কফিটা আজও জলে গেল।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩১ ঘণ্টা, সেপ্টেস্বর ১২, ২০১২