 |
ঢাকা: পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রাপ্তির সার্বিক বিষয় নিয়ে পরে বিবৃতি দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ফিরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকেও আমি বলেছি, এ বিষয়ে পরে আমি একটি বিবৃতি দেবো। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে আমি এখনই প্রস্তুত নই।’’ সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, এ বিষয়ে বাইরে অনেক ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘‘যা শুনছেন, শুনতে থাকুন।” উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাচ্ছে না বাংলাদেশ, এ বিষয়ে অনেকাংশেই নিশ্চিত হয়েছে সরকার এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক তার ঋণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে না। বিষয়টি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিতও করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোববার অর্থমন্ত্রী মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও পরে নিজেদের মধ্যেও বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরই ড. মসিউরও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিষয়টিতে অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে তার ঋণ প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নেয়। পরে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাংলাদেশ সরকারকে তিনটি শর্ত দেয়। সরকার সেগুলো মেনে নেওয়ারও চেষ্টা করে। প্রথম শর্ত ছিলো, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও পরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবুল হোসেনের মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়া, সেটি সরকার যথাযথভাবে সম্পন্ন করে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে। দ্বিতীয় শর্তটি ছিলো, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সরে যাওয়া অথবা তাকে ছুটিতে পাঠানো। আর তৃতীয় শর্ত দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকের একটি প্যানেলের প্রবেশাধিকার রেখে একটি টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করা। এসব শর্ত মেনেই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচনা নতুন করে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকই নেতিবাচক মনোভাব দেখাতে শুরু করে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে পদ্মাসেতু নির্মাণে ১২০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্বব্যাংক। কিন্তু জুনে এসে এ নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। অভিযোগ ওঠে, সেতু নির্মাণের জন্য কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব রয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক তার অর্থায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। বিশ্বব্যাংকের পর প্রতিশ্রুত অর্থ সহায়তা প্রদানের বিষয়ে এডিবি ও জাইকাও রাঙাচোখ দেখায়। এর পর থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সরকার বিষয়টিতে অস্বস্তির সময় কাটাচ্ছে। এর মধ্যে অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণেরও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মালয়েশিয়া থেকে অর্থ নিয়ে সেতু করা হবে সে ব্যাপারেও চলে তোরজোর। তবে অর্থমন্ত্রী গোড়া থেকেই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতার একটি স্থানে নিয়ে যেতে সচেষ্ট ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের প্রথমে ওই পদ ছেড়ে দেওয়া এবং পরে মন্ত্রিসভা থেকেই সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ৬.১৫ কি.মি. দীর্ঘ পদ্মাসেতুটি নির্মাণে ২৯০ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছিল। তার মধ্যে ১২০ কোটি ডলার বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছাড়াও এডিবি ৬১টি কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেয়ায় সম্মত হয়েছিল। বাংলাদেশ সময়: ১২৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১২ এসআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর/এমএমকে