৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, মঙ্গলবার মে ২১, ২০১৩ ১০:৩৬ পিএম BDST banglanew24
10 Jul 2012   05:53:01 PM   Tuesday BdST
E-mail this

এখনো কষ্ট পান শামসুর রহমান


স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
এখনো কষ্ট পান শামসুর রহমান

ঢাকা: কোন ম্যাচ না খেলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা শামসুর রহমানকে এখনো তাড়িয়ে ফেরে। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও তাকে প্র্যাকটিস ম্যাচেও খেলানো হয়নি। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। কোন কিছু না খেলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে গেলেন। কেন বাদ পড়েছিলেন এখনো তার উত্তর খুঁজে বেড়ান শামসুর রহমান।  

বাংলানিউজ: আপনার বন্ধুদের অনেক জাতীয় দলে খেলেন, আপনি কেন পারছেন না?

শামসুর রহমান: আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবেন যারা জাতীয় দলে নিয়ে কাজ করেন। আমাকে দু‘বার জাতীয় দলে নিয়ে খেলার সুযোগ না দিয়ে বাদ দিয়েছে। আমাকে প্রমাণ কারার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আসলে কোচ জেমি সিডন্স আমাকে পছন্দ করতেন না।

বাংলানিউজ: কিভাবে বুঝলেন জেমি সিডন্স আপনাকে পছন্দ করতেন না?

শামসুর রহমান: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার পর নতুন করে ব্যাটিং শেখার সুযোগ নেই। জেমি অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা করেছেন যা আমি পারিনি। সেজন্য তিনি আমাকে পছন্দ করতেন না। আমি যখন টেস্ট দলে ঢুকি তখন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার ইনিংসের তিনটায় ৫০, একটায় ৩৮ রান করেছি। আমাকে নেওয়া হলো কিন্তু খেলানো হলো না। টি-টোয়েন্টিতে আমাকে ৯ নম্বরে খেলাতে চেয়েছেন। কোচ আমাকে বলেন, তোমার জায়গা ৮/৯ এ। একজন আন্তর্জাতিক কোচ এভাবে বললে কি করার থাকে। আমি দুই বছর জাতীয় দলের ক্যাম্প করেছি তিনি আমার সঙ্গে ১০ মিনিট ভালো করে কথা পর্যন্ত বলেননি।

বাংলানিউজ: আপনার ভেতরে জেদ কাজ করে?

শামসুর রহমান: যেহেতু আমি ক্রিকেট খেলতে চাই, ক্রিকেট ভালোবাসি, অবশ্যই জেদ কাজ করে। পাশাপাশি ভাগ্য খুব জরুরী। এখন যে তিনজন নির্বাচক আছেন তারা পারফরমেন্স দেখেন। আমার পারফরমেন্স সব সময় ভালো থাকে। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরমেন্স হচ্ছে জাতীয় দলে ঢোকার সিঁড়ি। এখানে ভালো খেললে জাতীয় দলে টিকে থাকতে পারবো। আমি যখন জাতীয় দলে নেওয়া হয় তখন একটা সুযোগ দিতে পারতো। সবাই সুযোগ পেয়েছে আমি সুযোগ পাইনি। এরচেয়ে কষ্টের কিছু নেই। আপনি কাজ করে ফল না পেলে মন ভেঙ্গে যাবে। আমারও মনটা খুব খারাপ হয়েছিলো। আমার পরিবার আমাকে খুব সাহায্য করেছে।

বাংলানিউজ: ‘এ’ দলের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

শামসুর রহমান: আশাবাদী হতে হয় নিজের পারফরমেন্স থেকে। জাতীয় লিগে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করেছি। প্র্যাকটিসেও চেষ্টা করছি। আশা করি সুযোগ পাবো।

বাংলানিউজ: সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ আছে, আপনার কোন পরিকল্পনা আছে?

শামসুর রহমান: ‘এ’ দলে সুযোগ পেলে ভালো খেলে নির্বাচকদের খুশি করতে চেষ্টা করবো। আমার পারফরমেন্সই যাতে নির্বাচকদের কাজ সহজ করে দেয়। সত্যি বলতে আমি হোম সিরিজটা খেলতে চাই।  

বাংলানিউজ: আনার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বিষয়ক নানা অভিযোগ আছে, কতটা সত্য?

শামসুর রহমান: এ বিষয়ে আমার বলার কিছুই নেই। আপনি কেমন মানুষ পারফরমেন্স বলে দেবে। আমি কেমন ছেলে আমার পারফরমেন্স তা বলে দেবে। আমি এমন কি করি যাতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়? উশৃঙ্খল হলে কোন ক্রিকেটার মাঠে পারফর্ম করতে পারবে না। ক্লাবের নিয়ম মেনে প্র্যাকটিস করি, কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করি না, মাঠেও দৃষ্টিকটু কিছু করিনি। তাহলে কেন এমন অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আসলে ভিত্তিহীন।

বাংলানিউজ: আপনার জীবনে কার অবদান বেশি?

শামসুর রহমান: আমি যখন ছোট ছিলাম আমার বোন আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি যখন এই জায়গায় এসেছি, তিন জন কোচের কাছ থেকে খুব সহযোগিতা পেয়েছি। যাদের কথা না বললেই নয়, নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্যার, খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই এবং বিকেএসপির আরেকজন কোচ মতিউর রহমান।

বাংলানিউজ: আগামী পাঁচ বছরে আপনার পরিকল্পনা কী?

শামসুর রহমান: পরিকল্পনা অবশ্যই আছে। পাঁচ বছর জাতীয় দলে খেলবো এবং ভালো পজিশনে থাকার চেষ্টা করবো।

বাংলানিউজ: আপনার কাছের বন্ধু কে?

শামসুর রহমান: মুশফিকুর রহিম, সোহরাওয়ার্দী শুভ, ডলার মাহমুদ, মার্শাল আয়্যুব এবং আমার স্ত্রী সামিয়া রহমান আমার খুব কাছের বন্ধু। তাদের কাছ থেকে আমি সব সময় সহযোগিতা পাই।

বাংলানিউজ: ক্রিকেট মাঠে কারো রোষানলে পড়েছেন?

শামসুর রহমান: এমন কিছু কখনো হয়নি।

বাংলানিউজ: ক্রিকেটে খারাপ সময় এবং দুঃখের ঘটনা আছে?

শামসুর রহমান: ২০০৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর আমাকে কোথাও রাখা হয়নি। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলাম আমি। তারপরেও কোথাও রাখেনি। ২০০৯ এবং ২০১০ জাতীয় দলে ঢুকে কোন কারণ ছাড়া বাদ পড়ি। এরচেয়ে দুঃখের ঘটনা আর কি হতে পারে।

বাংলানিউজ: কোন সুখোস্মৃতি আছে?

শামসুর রহমান: ২০০৯ সালে পিসিএলের ম্যাচ চলছিলো। ইস্পাহানির হয়ে পাইরেটস অব চিটাগংয়ে বিপক্ষে ৭১ রান করেছিলাম। ওই দিনই জাতীয় দল ঘোষণা করেছিলো। আমি প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পাই। ২০১০ সালে মোহামেডানের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ম্যাচটিও আমার জন্য স্মরণীয়। খুব ভালো খেলেছিলাম।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫২ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
এসএ




বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

আজকের খেলা

খেলা

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান