 |
ঢাকা: গাজীপুর-৪ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর, মনোনয়ন পত্র বাছাই ৫ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর এবং নির্বাচন ৩০ সেপ্টেম্বর।
নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন মিহির সরওয়ার মুর্শেদ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন হাসানুজ্জামান। সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ১০২ এবং সম্ভাব্য ভোট কক্ষ ৪৭২।
তফসিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচন অনুষ্ঠান কমিশনের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থানও থাকে। তবে আমাদের তরফ থেকে সব দল এবং প্রার্থীর প্রতি আহ্বান, তারা যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক কথা হচ্ছে। তারা বিয়ষয়গুলো আমদের চেয়ে ভালো বোঝেন। জনগণের চাওয়া না চাওয়ার প্রতিফলন তারা উপলব্ধি করেন। যেহেতু তারা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।”
আগামী জাতীয় নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “নির্বাচন একটি সাংবিধানিক অ্যাকটিভিটি। আমরা তা করার জন্য এক হয়েছি। নির্বাচন কিভাবে হবে তা ঠিক করবে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রয়োজনে দলগুলো নির্বাচনী আইন ও সংবিধান পরিবর্তন করবে। কিন্তু আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের যাবতীয় ব্যবস্থা নেব। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সাংবিধানিক একটি টাইম ফ্রেম থাকবে। তার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে আস্থায় এনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেবে। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের চাহিদা বোঝে। যে পদ্ধতির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে, সে দাবির জন্য আপনারা সোচ্চার হোন।”
জাতীয় সংসদের ১৯৭ (গাজীপুর- ৪) নম্বর আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৮৮৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৯৫ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮৯।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা ৫০০ টাকার বিনিময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রার্থীকে যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে একটি নির্বাচনী হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনের সকল ব্যয় ওই হিসাব থেকে করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাংকের হিসাব নম্বর জমা দিতে হবে। অন্যান্য উপ-নির্বাচনের মতো এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচনী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটেলিয়ান।
এছাড়া ৠাব মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রতিটি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচনী অপরাধের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে ২ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনী তদন্ত কমিটি নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ কমিটি প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা পর্যবেক্ষণ করবে। এ নির্বাচনে আগ্রহী প্রত্যেক প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। ভোট গ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। তবে ৪টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থান করা ভোটাররাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে বা ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচনী এলাকায় সরকারি ছুটি থাকবে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সকল ধরনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। কোনো নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিক সার্বক্ষণিক ভোট কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না।
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ কার্যকর হয়েছে। সেই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন বিধি ১৮ অনুসারে দণ্ডনীয়।
ঈদের আগেই ৫ অক্টোবরের মধ্যে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে উপ-নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ইসি।
কোনো আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্নের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’
গত ৭ জুলাই গাজীপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। স্পিকারের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল সোহেল তাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। কার্যপ্রণালী বিধি না মেনে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ায় স্পিকার তখন তা গ্রহণ করেননি। স্পিকার তখন বলেছিলেন- যথাযথ নিয়ম মেনে পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করা হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসন থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজিম আহমেদ (সোহেল তাজ)। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল মুজিদ পান ৬৪ হাজার ৪৬৬ ভোট।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও ২০০৯ সালের ৩১ মে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তবে সে সময় রাষ্ট্রপতি তা ‘গ্রহণ করেননি’ বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ওই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তিন বছর পরও সোহেল তাজের ব্যাংক হিসাবে প্রতিমন্ত্রীর বেতন-ভাতা জমা হতে থাকায় গত ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এরইমধ্যে এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে মহাজোটের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এ নির্বাচনে একক অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১২
আরএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর