 |
| ছবি: নূর/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব কমিয়ে পরমত সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ফিনল্যান্ড বিএনপি’র সভাপতি জামান সরকার। কোনো ধরনের দলাদলিতে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ কোনোভাবে যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারিধারা-বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বাংলানিউজের অফিস পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বাংলানিউজের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
তিনি জানান, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপে বাংলাদেশি তথা বাঙালি কমিউনিটিতে এখন বেশ জনপ্রিয় বাংলানিউজ। দেশের যে কোনো খবরের জন্য তারা এখন প্রথমেই লগ ইন করেন বাংলানিউজে।
ইউরোপের একটি দেশে বাংলাদেশের প্রধান একটি দলের শীর্ষ নেতা জামান সরকার বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ফিনল্যান্ডে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্ট সাবওয়ে’র বেশ কয়েকটি শাখা পরিচালনার পাশাপাশি রাজনীতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ভূগোল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ভাল কিছু করার উদ্দেশ্যে ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডে পাড়ি দেন জামান সরকার। প্রথমে তুর্ক শহরে বেশ কিছুদিন কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটলেও ১৯৯৮ সালে হেলসিংকি আসার পর সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার। বিএনপির প্রতি দূর্বলতার কারণে সমমনাদের খোঁজ-খবর নেন। এরপর দলে সক্রিয় কর্মী হয়ে কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে ফিনল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। দলে সক্রিয় ভূমিকার সূত্রে ২০১১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সেই পদে তিনিই আসীন থাকেন। একই বছরের পরের মাসে ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন জামান সরকার।
জামান সরকার জানালেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটির আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই আলোচনা হয় তাদের। এ বিষয়ে জামান সরকার বলেন, জাতীয় ইস্যু নিয়ে ফিনল্যান্ডে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়ার বিষয়টি খুবই আন্তরিক। এ শিক্ষা নিয়েই তারা দেশিয় বিভিন্ন ইস্যুতে ফিনল্যান্ডে বসে আলোচনা করেন। ফলে সেখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বৈরীতা বা কাদা ছোড়াছুড়ি নেই বললেই চলে।
জামান সরকার বলেন, সেখানকার পার্লামেন্টেও বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্ট বর্জনের রেওয়াজও নেই। বাংলাদেশেও এমন কালচার তৈরি হওয়া উচিত উল্লখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের মতামত গ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা থাকা উচিত।
বিদেশে বসে রাজনীতি করা প্রসঙ্গে জামান সরকার বলেন, দেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে ভালবাসা মানে দেশকে ভালবাসা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত (ইইউ) দেশ ফিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। সেখানে বসবসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ৫ হাজারের ওপরে। জনসংখ্যার অনুপাতে ইইউ পার্লামেন্টে ৯ জন প্রতিনিধি রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ইইউ পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের কাছে বিএনপির পক্ষে তারা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। ফলে পার্লোমেন্টে আলোচনার পর বাংলাদেশের সরকারের ওপর এর সমাধানে প্রভাব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি জামান সরকারের।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে দাবি তুলে ধরেন তারা।
রাজনীতির পাশাপাশি কর্মজীবনেও সক্রিয় জামান সরকার। শুরুতেই ফিনল্যান্ডে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফিনল্যান্ডে বিশ্বের খ্যাতিমান ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট ‘সাবওয়ে’র চারটি শাখা পরিচালনা করছেন। এসব রেস্টুরেন্টে ৯/১০ জন করে বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এছাড়া রয়েছে দু’টি বার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘সাবওয়ে’র ৩৭ হাজার শাখা রয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশে বসে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন তিনি।
ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি। রুপসী বাংলা সমিতির মাধ্যমে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে। বাংলাদেশিদের জন্য একটি কবরস্থান তৈরিরও চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া সেখানে বাংলাদেশি সংস্কৃতি চর্চার জন্য একটি ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
রাজনীতি ও ব্যবসার পাশাপাশি লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন জামান সরকার। বাংলানিউজে লেখেন ফিনল্যান্ডে বসে। এছাড়াও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি তো আছেই।
ফিন্যান্ডেই বিয়ে করেছেন জামান সরকার। ওই দেশের লাইতিলা এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি। তিনি তিন সন্তানের জনক। বৃহত্তর ঢাকার বিক্রমপুরে তার গ্রামের বাড়ি। সেখানে রয়েছেন বাবা-মা। তারা ৫ ভাইবোন। অসুস্থ মাকে দেখতে তিনি বর্তমানে দেশে রয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১১ ঘণ্টা, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
এমআইএইচ/সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর