 |
সংসদ ভবন থেকে : সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, “বিরোধী দলের যদি খায়েস থাকে তবে সংসদে আসনের আনুপাতিক হারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দিতে পারে। এটা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংসদে এসে কথা বলতে পারে।”
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সুরঞ্জিত বলেন, “নির্বাচন সরকার করে না। নির্বাচন করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। সেখানে জাতীয় সরকার, দলীয় সরকার থাকুক আর অন্তর্বর্তী সরকারই থাকুক তার কাজ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে আমরা সংবিধানে তা স্থাপন করেছি। আর তা হলো- অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “এরপরেও যদি বিরোধী দলের সন্দেহ থাকে তবে সংসদে এসে বলতে পারে। বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের সরকার নয়। এটা মহাজোটের সরকার। এখানে অন্যান্যরাও আছে। তাদের যদি খায়েস থাকে তবে অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটা বিবেচনা করবেন।”
তিনি বলেন, “পৃথিবীর কোথাও কোনো সরকার পদত্যাগ করে নির্বাচন করে না, ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতবর্ষেও পদত্যাগ না করে নির্বাচন করতে দেখি আমরা। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়। আমাদের এখানেও হবে।”
বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাস্তায় থেকে যা করতে পারেননি তা এখানে এসে বলুন।”
তিনি বলেন, “আমাদের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিরোধী দল চাইলে আদালতে যেতে পারে। নাহয় দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সংবিধান সংশোধন করতে পারে।”
সোমবার রাশেদ খান মেননের সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে দফতরবিহীন এ মন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী করতে আমরা কমিটি করেছিলাম। সেখানে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননও ছিলেন। তারা তিনটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। আর সেগুলো হলো- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, বিসমিল্লাহ আর সমাবেশের স্বাধীনতার বিষয়ে। কাল মেনন সাহেব যেটা বলেছেন সেটা নিয়েতো কিছু তখন বলেননি। আজ কেন মন্থরার মুখে অন্য কথা।”
উল্লেখ্য, রাশেদ খান মেনন সোমবার বাজেট আলোচনায় নির্বাচনের আগে তিনমাস সংসদের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সুরঞ্জিত বলেন, “যে সরকার থাকতে সেটা নির্বাচিত হতে হবে। এটা নিয়ে প্রশ্নওঠার সুযোগ নেই। মেনন সাহেব লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছেন। এটা সাংবিধানিক শব্দ নয়। সামরিক-বেসামরিক আমলাদের শব্দ। স্পিকার- ডেপুটি স্পিকারও ফ্ল্যাগ নিয়ে নির্বাচন করেন। কোই সেখানেতো সমস্যা হয় না।”
তিনি আরো বলেন, “সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলে কি সংকট কেটে যাবে? বিরোধী দল সংসদে ফিরে আসবে? মেনন সাহেব কি দায়িত্ব নিয়ে এ কথা বলছেন?”
সুরঞ্জিত বলেন, “১২৩ অনুচ্ছেদ ৭২ এর সংবিধানে যা ছিলো তাই আছে।”
ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কথা বললে সুরঞ্জিত দাঁড়িয়ে যান মেননের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুরঞ্জিত বলেন, “মেনন সাহেব বলেছে আমি আমার হারানো রাস্তা ফিরে পেতে চাই। উনি আমার বন্ধু। আমার ওপর উনার সমাবেদনা আছে দেখে আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। আর এটাও বুঝি যে, অনেকের মন্ত্রী হতে না পারার দুঃখও আছে।”
ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুত নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে সফল উল্লেখ করে সুরঞ্জিত আরো বলেন, “কয়লা উত্তোলনের জন্য একটি জাতীয় সংলাপ হতে পারে।”
বাংলাদেশ সময় : ১৪১৪ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
এসএইচ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর