 |
ঢাকা: জাতীয় স্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালকে মলিন করতেই যেন ভারী বৃষ্টিপাত। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের কাদাপানিতে স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি দুই ফাইনালিস্ট চট্টগ্রামের কাটির হাট উচ্চ বিদ্যালয় ও নারায়গঞ্জের ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা। তারপরেও ফাইনালের মতোই এক ফাইনাল উপহার দিয়েছে উভয়পক্ষ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাসিংত ছিলো। পেনাল্টি শ্যুট আউটে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ৪-৩ গোলে কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হয়।
কাদা-পানিতে বল নিয়ে এগোতে কষ্ট হচ্ছিলো ক্ষুদে ফুটবলারদের। তাতে ফাইনালের আবহ মলিন হয়নি দুই দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণে। দুর্দান্ত এক ম্যাচ উপহার দিয়েছেন তারা।
শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে এগোতে থাকে খেলা। ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়। বাঁপ্রান্ত দিয়ে অধিনায়ক মিঠুর ফ্রিকিকে আসা বল কোনাকুনি শটে জালে জড়ান রাব্বি। ৪৩ মিনিটে গোল শোধের সুযোগ নষ্ট করে কাটির হাট। পোস্টের সামনে থেকে জিকোর প্রচন্ড শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ইসদাইরের গোলরক্ষক রনি। বিরতির আগেই ম্যাচে সমতায় ফেরে চট্টগ্রাম কাটির হাট। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ভেতরে কাটিরহাটের মিনহাজুল আবেদীনকে অবৈধভাবে বাধা দেন ইসদাইরের সোহাগ। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। কাটিরহাটের পক্ষে সুযোগ কাজে লাগান আবদুল্লাহ (১-১)। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো পক্ষই গোল করতে না পারায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত ২০ মিনিটেও আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে।
টাইব্রেকার নারায়ণগঞ্জের সানি হোসেন, মমিনুল ইসলাম, অধিনায়ক মিঠু ও শিবু হালদার গোল করতে পারলেও গোল পায়নি রাব্বি। অন্যদিকে চট্টগ্রামের আবদুল্লাহ, রাকিব ও ওসমান গোল করতে পারলেও ব্যর্থ হয় রমজান ও শাহজাহান। পেনাল্টি কর্নারের কাটির হাটের পঞ্চম শটটি নিয়েছিলেন গোলরক্ষক শাহজাহান নিজেই। কিন্তু তার শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রনি ঠেকিয়ে দিতেই আনন্দের বন্যা বয়ে যায় ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় শিবিরে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শিরোপা আক্ষেপ ঘুচায়। অন্যদিকে মাঠেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে কাটির হাটের ক্ষুদে ফুটবলাররা।
ম্যাচ সেরা হয়ে এক লাখ টাকা পুরস্কার জেতেন বিজয়ী দলের মিডফিল্ডার রাব্বি। নবম শ্রেণীতে পড়–য়া এই ফুটবলার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘পেনাল্টিতে গোল করতে না পারায় খুব আপসোস হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো আমরা ম্যাচ হেরে যাবো। তবে দল শিরোপা জেতায় খুব আনন্দ হচ্ছে।’
প্রতিযোগিতার বিজয়ী দলকে ১০ লাখ টাকার প্রাইজমানি এবং রানার্স আপ দলকে ৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি পুরস্কার ও ট্রফি দেওয়া হয়। ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী ও বিজিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের, প্ল্যান বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিরনা রিমাতা এভোরা ও বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১২
এএইচবি
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর/সেকান্দার আলী, বিভাগীয় প্রধান স্পোর্টস