ঢাকা: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হলো তরুণ লেখক ও সাংবাদিক শান্তনু চৌধুরীর গল্পের বই ‘প্রথম চিঠি’ ।
নিয়াজ চৌধুরী তুলির প্রচ্ছদে সানসিটি পাবলিশার্স বইটি মেলায় এনেছে। এতে গল্প রয়েছে ১৭টি। বৈচিত্র্যময় আবেগ, বিচিত্র জীবনের গল্প যেন পাতার পর পাতায় বুনে চলেছেন লেখক।
বইয়ের ভূমিকায় কার্টুনিস্ট, রম্য লেখক আহসান হাবীব বলেছেন, “শান্তনু চৌধুরীর আগের বইগুলোর মধ্যে সাংবাদিকতার গন্ধ ছিল। কিন্তু এবার ও পুরোপুরি সাহিত্যিক।”
গল্পগুলোর কোনো না কোনো চরিত্র পাঠকের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। পরিচিত কোনো মানুষ হঠাৎ করেই মনে করতে পারে, এমনটা তো তার জীবনেও ঘটছে অহরহ। কখনও কখনও মনে পড়বে ফেলে আসা দিনের কথা।
‘আনন্দের কান্না’ গল্পের রক্তিমের মতো হয়ত আমাদের মধ্যে কেউ খেয়ে ফেলেছিল একগাদা ঘুমের ওষুধ অথবা ‘স্বপ্নের প্রেম’ গল্পের সৌম্যের মতো হয়ত প্রতিটা প্রেমই প্রথম প্রেমের মতো লাগতে পারে আপনার কাছে। স্কুলে বা কলেজে... কোনো এক ঝমঝমে বৃষ্টির বিকেলে বা ঘুঘুডাকা একলা দুপুরে কেউ হয়ত আলতো করে ছুঁয়ে দিয়েছিল আপনার ঠোঁট। আর আপনিও পারমিতার মতো কোনোদিন কথা বলেননি তার সঙ্গে। সেই কপট রাগ হয়ত আজও আপনাকেই কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে।
‘জীবনের রঙ’ গল্পে মিজানের বউ মিলির সঙ্গে আপনিও ঘুরে আসবেন অভাবের সংসার থেকে জমিদারের রংমহলে। শ্বশুরবাড়ির নানা গঞ্জনায় আত্মহত্যা করা কৃতিদীপার মতো অসংখ্য কৃতিদীপা ছড়িয়ে আছে এবাড়ি ওবাড়িতে। শাওলীর মতো আপনারও কোনো বন্ধু হয়ত সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পুড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে অন্য দেশের সীমানায়, এক সন্ধ্যায় হয়ত তাকেও খুঁজবে আপনার মন।
লেখক হুমায়ূনের তরুণী স্ত্রী আর তার সাদা চুল কালো করার গল্পও আছে এখানে; আছে হৃদয়ের দাবি নিয়ে ভালোবাসার মানুষের জন্য অনন্ত অপেক্ষার গল্প।
এভাবেই শান্তনু চৌধুরীর ১৭টি গল্পের সঙ্গে আপনিও ঘুরে আসবেন একেকটা পরিবার, একেকটা মানুষের ভেতর থেকে। কখনও সেই মানুষটাই হয়ে উঠবেন আপনি, আপনার বন্ধু অথবা চেনাজানা কেউ।
বইটি সম্পর্কে গল্পকার শান্তনু চৌধুরী বলছেন, “জগতের সুখের ভিত্তি কী? প্রেম না কামনা? এই প্রশ্নের কোনো সর্বজনবিদিত উত্তর নেই। তবে এটা ঠিক, সময়ের প্রেম সময়ের প্রয়োজনে পরিণত হয় লেনাদেনায়। দীর্ঘ সময় প্রেম কারও জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে এমন উদাহরণ বিরল। এসব নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি প্রথম চিঠি গ্রন্থের গল্পগুলোর মধ্যে।”
শান্তনু চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামে। বর্তমানে এসএটিভি’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৩
আরএম/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর