দিনাজপুর: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে গত ৫ দিনে কেন্দ্রের ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। উভয় কারণে সরকারের অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৪৩ জন শ্রমিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। কর্মবিরতির অংশ হিসেবে তারা ১ জুলাই ২ ঘণ্টা, ২ জুলাই ৩ ঘণ্টা, ৩ জুলাই ৪ ঘণ্টা, ৪ জুলাই ১৪ ঘণ্টা এবং ৫ জুলাই ৬ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন।
এদিকে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরা বেল্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ শিফটে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে সরবরাহ করতো। যে সময়ে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন সে সময়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ডিজেল তেল ব্যবহার করে কেন্দ্রের ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ওই দুটি ইউনিট চালু রাখতে প্রতি ঘণ্টায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হয়।
এ হিসাব অনুযায়ী গত ৫ দিনে শ্রমিকরা ২৯ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন। এতে করে দুটি ইউনিটে ৭১ লাখ ৫ হাজার টাকার ডিজেল খরচ হয়েছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত ডিজেল তেল ব্যবহার করা হলেও ওই দুটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল অনেক কম। শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করার আগে ওই দুটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট করে ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৮৭ মেগাওয়াট ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো।
তবে যে সময়ে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন, সে সময়ে ডিজেল ব্যবহার করে ওই দুটি ইউনিটের ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৬০ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদন হয়েছে। সর্বশেষ, গত বুধবার বিকেল ৫টার পর ওই দুটি ইউনিটের মধ্যে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৫৫ মেগাওয়াট ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
কয়লা দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ৩.৮০ টাকার খরচ হয়। কয়লার বিপরীতে ডিজেল তেল ব্যবহার করে খরচ হয় ২৩.৫০ টাকা। কিন্তু সঠিকভাবে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) জয়দেব কুমার সাহা বাংলানিউজকে জানান, শ্রমিকদের কর্মবিরতির সময় ডিজেল দিয়ে ইউনিট দুটি চালু রাখা হয়।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলামকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে জানান, সবসময় একই পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হলেও তা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০০৩ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর