 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর ছাত্রলীগের হামলার জের ধরে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্নি) চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে বুধবার রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বেলা ১১টার দিকে ঘণ্টাখানেকের জন্য জরুরী বিভাগসহ হাসপাতাল ভবনের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা মৌন মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ দেখান। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অংশ নেন।
এ সময় নগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে জরুরী চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনেরা। তারা আতঙ্কিত হয়ে চারদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। রোগীরা যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন।
হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার রাত ৮টায় কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। ওই দিন রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের ৫ দফা দাবির কথা জানান চমেক হাসপাতালের ইন্টার্নি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. গোলাম কিবরিয়া।
দাবিগুলো হচ্ছে- হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, গাইনি-সার্জারি-অর্থোপেডিকস-ক্যাজুয়ালিটি ও জরুরী বিভাগের ওয়ার্ডে ৫ জন করে সিকিউরিটি গার্ড বা পুলিশ সদস্য মোতায়েন, ১ জন রোগীর সঙ্গে মাত্র ১ জন অ্যাটেনডেন্টকেই ওয়ার্ডে প্রবেশাধিকার দেওয়া, সব চিকিৎসকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান এবং হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলো সচল করা।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান জুম্মা বাংলানিউজকে জানান, বুধবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ইসলামিয়া কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সঙঘর্ষে আহত এক ছাত্রকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায় ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের কিছু কর্মী।
খবর পেয়ে চমেক ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়ো হয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের পক্ষে সঙঘর্ষে লিপ্ত হন। এ সময় মিজান নামে ১জন ইন্টার্নি চিকিৎসক ও ২জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। হামলার পর থেকে চমেক হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, পর্যাপ্ত পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭) ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফসিউর রহমানের একান্ত সচিব বেলা ১টায় বাংলানিউজকে জানান, আন্দোলনরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বৈঠক চলছে।
উল্লে¬খ্য, ১৯৬০ সালে ১৫ একর জায়গার ওপর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১২০টি শয্যা দিয়ে। শুরুতে সার্জারি, গাইনি, অবসটেট্রিকস বিভাগ থাকলেও বর্তমানে মেডিসিনসহ প্রায় ২৫টি উপ-বিভাগে শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ১০টি।
৪০ হাজার বর্গকিলোমিটারের ৩ কোটি মানুষের ভরসাস্থল চমেক হাসপাতালে শয্যাসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে। পদ না থাকা এবং পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে এসব রোগীদের চিকিৎসাসেবার সিংহভাগই নির্ভর করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ওপরই।
বাংলাদেশ সময় : ১৩৩৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২
এআরএম/ সম্পাদনা : সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
kumar.sarkerbd@gmail.com