 |
চট্টগ্রাম : গান, নাচ, আবৃত্তি, কথামালাসহ নানা আয়োজনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে হয়ে গেল বিভিন্ন সংগঠনের বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠান। প্রাণের উচ্ছাসে উচ্ছাসিত দরদি সব পরিবেশনায় উঠে এসেছিল বাঙালির গৌরবময় চিরায়ত ঐতিহ্য। স্মৃতিচারণায় নস্টালজিক হয়ে ওঠে একেকটি আসর।
সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিবিষয়ক গবেষণামূলক সংগঠন সমাজ সমীক্ষা সংঘ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ফুলকির একে খান স্মৃতি মিলনায়তনে। নৃত্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বর্ষাবন্দনা করেন সাংবাদিক ওমর কায়সার। বক্তব্য দেন সংঘের সভাপতি কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু।
বক্তারা বলেন, বর্ষা প্রকৃতির আশীর্বাদ। তীব্র দাবদাহে সুশীতল পরশ নব উদ্যম জাগায় বাঙালির মনে। শুধু মানুষ নয়, প্রকৃতিকেও নবজীবন দান করে। এ জনপদে এমন কোনো কবি-সাহিত্যিক নেই, যিনি বর্ষার প্রেমে পড়েননি।
সুন্দর কথামালা শেষে ছিল ছায়ানটের শিল্পী সুকান্ত ভট্টাচার্য ও সত্যজিৎ ঘোষের সুরের ডালা। তাদের গান ছুঁয়ে যায় শ্রোতার হৃদয়।
এদিকে, থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) গ্যালারিতে ‘বাদল সাঁঝের কাব্য’ শিরোনামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। শিল্পীরা সমবেত কন্ঠে একে একে পরিবেশন করেন, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে’, ‘মন মোর মেঘেরও সঙ্গী’সহ বেশ কয়েকটি সম্মেলক গান।
এরপর সুমি দাশের কণ্ঠে ‘এই মেঘলা দিনে একলা, ঘরে থাকে না তো মন’ গানটি এবং সাইদুর রহমানের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একটি দিন’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে শুরু হয় একক পরিবেশনা। একে একে সঙ্গীত ও আবৃত্তি করেন মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ইভা চৌধুরী, শান্তা সাহা, সুমি বিশ্বাস, বৈশাখী নাথ, মিঠু তলাপাত্র, আল তুষি এবং সিদ্ধার্থ শংকর দে।
শ্রাবণী দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গান করেন রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী আইরিন সাহা এবং নজরুল সঙ্গীতশিল্পী দীপেন চৌধুরী। আবৃত্তি করেন উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জের ফারুক তাহের, নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গনের মাহবুবুর রহমান মাহফুজ, বোধন আবৃত্তি পরিষদের জাভেদ হোসেন, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের মোহিত বিশ্বাস, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের মাসুদ তালুকদার এবং সূচয়ন ললিতকলা কেন্দ্রের তাসকিয়াতুন নূর তানিয়া।
বাংলাদেশ সময় : ২৩১৩ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০১২
এআরএম/সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর