আত্মদর্শী - ০১
অভিশপ্ত হরিণীর চোখে চেয়ে দেখি সন্ধ্যা নামে,
সন্ধ্যা নামে দিকে দিকে ম্লান হয়ে ধেয়ে আসা কোনও
এক অতৃপ্ত আত্মার অর্ধনগ্ন চিবুকের মাঠে।
সেইক্ষণে কবন্ধ বালক এক, সমস্ত উদ্ভ্রান্ত
দিনলিপি এক করে বসে থাকে, হাপিত্যেশ করে
যেন কোন মায়াময়ী সহোদরা পরিচয় ভুলে
হরণ করেছে যাবতীয় কামনার পাণ্ডুলিপি।
তবু বহু ব্যথা ও বিচ্ছেদে রোজ সেই কামলিপি
পাঠ করে মূর্ছা যায় একদল নিদ্রামগ্ন জলসাপ।
একা, কোন শশধর রাতে এইসব স্বপ্নময়
কথা খুব মনে পড়ে, মনে পড়ে হারানো যৌবন
ফিরে পেয়ে কতটা উল্লাস ও কাতরতায় কেঁপে
উঠেছিলো নিঝুমের ঠোঁট! আসলে এ কিছু নয়,
মহাশূন্যে উঠে গেলে পৃথিবীকে নস্যি মনে হয়!
আত্মদর্শী - ০২
বেদনার ভাষা দেখো প্রিয়মুখে কিভাবে মিলায়!
এই যে কামনালাপ পথে পথে নিত্য বরিষণ
কর্ষণ বিনে কি বলো দেখা যাবে ঘুড়ি উড্ডয়ন?
শৈশবের পাতাঝরা দিন প্রতিদিন বেদনায়
হাওয়ায় মিলায় আর কত কথা ব্যথাতুর মনে
ক্ষণে ক্ষণে জেগে ওঠে সদ্য বিধবা নারীর মতো
তবু নয় বেঁচে থাকা মানে মেনে নেয়া সব, স-ব
যেভাবে আহত বাঘ আরো বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে
কামনার ছায়াপথে তার থেকে থেকে জেগে ওঠে
দূরতম নক্ষত্রের বীজ যাতনার অনুযোগে-
পত্রযোগে বিলড়িত এই বার্তা তাহাদের দেশে
হঠাৎ পৌঁছে গেলে মেঘে মেঘে নেমে আসে রামধনু।
কে বলে রে, পরাভবে জেগে ওঠে মৌনতার চর?
আজ তাই মাঝরাতে ছেড়ে দেব জালালী কৈতর।
আত্মদর্শী - ০৩
ঘুমের ভেতর কোন অনাহূত শব্দ খেলে যায়
রাধা রাধা বলে ডাকে তবে কোন শ্যামের মুরলী?
ভাঙাচোরা অন্ধকারে হঠাৎ পিছলে পরে গেলে
ঘিরে ধরেছিল যে কামার্ত কুয়াশা পিছন থেকে
পুরাতন কোন জন্মে সে আমার বন্ধু ছিল ভেবে
এক অনির্দিষ্ট যাত্রাপথে উড়িয়ে ছিলাম আয়ু।
সেই থেকে এক অগ্নিময় ছায়ামূর্তি জেগে থাকে;
আমাকে স্বজন ভেবে টুকে রাখে খবরা-খবর-
আর বলে, ‘এই হলো ক্ষীরোদ সাগর। এইখানে
জন্ম ভিক্ষা নিতে হয়।’ আহা! জন্মভিক্ষা, জন্মান্তর!
এক অন্ধ জাদুকর তার থলের ভেতর থেকে
যেভাবে গোপনে বের করেছিল কাটা নরমুণ্ডু
কিছুই বুঝিনি তার। স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার ছাড়া
কে কবে উঠেছে জেগে! এই কথা কিভাবে বুঝাই!
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১২